Somoy News BD

১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , মঙ্গলবার
ব্রেকিং নিউজ

গণভোটে “হ্যাঁ”র পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারী কর্মকর্তাদের সামনে কোনও আইনগত বাধা নেই: —-অধ্যাপক আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারী কর্মকর্তাদের সামনে কোনও আইনগত বাধা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন,জুলাইতে যারা রক্ত দিয়েছেন, যাদের বেওয়ারিশ লাশ এখনো খুঁজে ফিরছেন তাদের স্বজনরা, তারা শুধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ এই গনভোট। বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা এই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন যারা তুলছেন তাদের উদ্দেশ্যে আলী রীয়াজ পালটা প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কোন নৈতিকতার কথা বলছেন- যে নৈতিকতা তাজা তরুণদের রক্তকে, তাদের আত্মদানকে অস্বীকার করে?’

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে সিলেটের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার সকালে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। বিভাগীয় সদর এবং জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা, বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিবেচনা করে তাদের এমন দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈধতা, তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই অন্তর্বর্তী সরকার। এটা মোটেই কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে। তাই সরকারের মূল ম্যান্ডেটই হলো রাষ্ট্র সংস্কার।

অনেকে দাবি করেন এমন গণভোট এর আগে কোথাও হয়নি উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এর আগে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৪৮ টি গণভোট হয়েছে, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা, নৈতিকভাবে এটা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব এবং আইনগত ভাবে এতে কোনো বাধা নেই, তিনি বলেন।

গণভোটে এত প্রশ্ন, এত বিষয়, সেটা সাধারণ মানুষ বুঝবেন না- এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে আলী রিয়াজ বলেন, ‘সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পারবেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান করতে পারবেন কিন্তু মানুষের অধিকারের প্রশ্ন আসলে সেটা জনগণ বুঝবেন না- আমি তার সাথে একমত নই।’ তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে মানুষকে অসম্মান আর হেয় করা হচ্ছে।

আলী রীয়াজ বলেন, বিগত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে যারা পিষ্ট হয়েছেন, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারা আমাদের হাতে একটা দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। আলী রীয়াজ বলেন, এই দায়িত্ব হলো, আগামী দিনে বাংলাদেশ যেন একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত হতে পারে তার জন্য যেন আমরা দায়িত্ব পালন করি।

বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অপরিমেয় একক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য যে কমিটি তৈরি করেছিল, সেই কমিটি ২৫টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় যে কিছু পরিবর্তনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অব্যাহত থাকবে। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে কমিটির একটি মাত্র বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।পুরো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটা বাতিল হয়ে যায় একজন মাত্র ব্যক্তির ইচ্ছায়।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, কর্ম কমিশন অথবা বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে হয়। প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব আর সংবিধান নিয়ে এই ছেলেখেলা বন্ধ করার জন্যই জুলাই সনদ এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসকের আর ফেরার সম্ভাবনা নেই কিন্তু ফ্যাসিবাদ ফেরার সম্ভাবনা আছে যদি আমরা রাস্তা বন্ধ না করি। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে অনেক বাবা- মায়ের সন্তান প্রাণ হারিয়েছে। আগামীবার যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে তাহলে আমার আপনার সন্তানের প্রাণ যেতে পারে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার এই চক্রকে ভেংগে দিতেই এবারের গণভোট হচ্ছে।

মনির হায়দার বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যে প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কিন্ত এই গনভোট। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছিল, পরবর্তীকালে সেই উদ্দেশ্য আর লক্ষ্যের কথা সংবিধানের মূলনীতিতে আর রাখা হয়নি। ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সেই সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার তথা ইনসাফ, স্বাধীনতার এই ৫৪ বছর পরও আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

এবারের গণভোট স্বাধীনতার সেই মূল চেতনার আলোকে দেশ গড়ার পথে একটি সুবর্ণ সুযোগ উল্লেখ করে মনির হায়দার এই সুযোগ সবাই যেন কাজে লাগাতে পারে সে লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি ধর্মসচিব মোঃ কামাল উদ্দিন গণভোটে হ্যা এর পক্ষে প্রচার করা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব উল্লেখ করে বলেন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে পারব।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান, সিলেটের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদ প্রমুখ।

সভায় সিলেট বিভাগের জেলাসমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং এনজিও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতায় বস্ত্র ও পাট খাতের আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনা : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা কাজে লাগানো

আরও পড়ুন

মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে —- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা

আরও পড়ুন

পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি করা হবে- পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি করা হবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন বিনিয়োগের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman