নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অনলাইন প্লাটফর্ম টেলিগ্রামে টাস্ক সম্পন্ন করানো সংক্রান্ত প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ১ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম আসামী মো. সোহেল মিয়া (৪১), পিতা-মৃত আবদুর রাজ্জাক, মাতা- সোবেদা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা সাং-বৈদ্যনাথপুর, ইউনিয়ন-ভাওরখোলা, থানা-মেঘনা, জেলা-কুমিল্লা। তদন্তেপ্রাপ্ত এই অভিযুক্তকে গত ১০/০১/২০২৬ খ্রি. ঢাকা মেট্রোপলিটনের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ি থানার ধলপুর এলাকা তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এর সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি চৌকশ আভিযানিক দল।
মোট ০৪ টি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ০৯ (নয়) টি ব্যাংক একাউন্টে বাদীর নিকট থেকে চক্রটি প্রতারণাপূর্বক ০১ কোটি ১০ লক্ষ ৫৮ আটান্ন ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয় মর্মে বাদীর অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতারক চক্রের এক সদস্য একটি অজ্ঞাত হোয়াটস অ্যাপ নাম্বার থেকে তাকে অনলাইন পার্ট টাইম জবের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে উপার্জন করা যাবে ভেবে বাদী রাজি হয়ে যান এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক সম্পন্ন করে প্রথম দফায় ১৫০ টাকা উপার্জন করেন। এভাবে ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে প্রতারক চক্র কর্তৃক বাদীকে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাদী চক্রের দেখানো মতে ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২১০০ টাকা উপার্জন করেন। এর পর প্রতারক চক্র ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে বিনিময়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা পাবে এই মর্মে একটি টাস্ক দেয়। উক্ত টাস্কটি সম্পন্ন করলে বাদীর ওয়ালেটে অর্থ জমা হয়েছে দেখালেও বাদী উত্তোলনে ব্যর্থ হন। বিষয়টি প্রতারক চক্রটিকে জানালে চক্রটি একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট দিয়ে সেখানে টাকা পাঠাতে বলে, না হলে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না মর্মে জানানো হয়।
এভাবে ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে মোট ০৪ টি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ০৯ (নয়) টি ব্যাংক একাউন্টে বাদীর নিকট থেকে চক্রটি প্রতারণাপূর্বক ১ কোটি ১০ লক্ষ ৫৮ আটান্ন ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। বাদী প্রদেয় অর্থ ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাবিধ ভয়ভীতি দেখায় প্রতারক চক্রটি। বাদী প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে লালবাগ (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ১৪, তারিখ- ২১/০৫/২০২৫ খ্রি., ধারা- ৪০৬/৪২০/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর অধিগ্রহণপূর্বক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। প্রতারক চক্রের মূলহোতা নাদিম (৩২)কে গ্রেফতারপূর্বক ০৫/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে প্রতারণার বিষয় স্বীকার করে ফৌ.কা.বি. ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং অপরাপর আসামীদের নাম প্রকাশ করে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা মো. সোহেল মিয়া (৪১) কে গ্রেফতার করে সিপিসি’র সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি চৌকশ দল।
গ্রেফতারকৃত মো. সোহেল মিয়া (৪১) কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।













