Somoy News BD

২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বুধবার
ব্রেকিং নিউজ

প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টে শুধু চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক: প্রতিবাদে মানববন্ধন

মঞ্জুর – স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টে শুধুমাত্র বিএমডিসি-রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট, ল্যাব সায়েন্টিস্ট ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। এই সিদ্ধান্তকে তারা “অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও বহু বছরের প্রতিষ্ঠিত পেশাগত চর্চার পরিপন্থী” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রেক্ষাপট:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ৫ ও ৭ জানুয়ারি (সংশোধিত) প্রকাশিত নির্দেশনায়, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার রিপোর্টে কেবল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও অন্যান্য ল্যাব পেশাদারদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

প্রতিবাদ কর্মসূচি:

এই নির্দেশনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

প্রতিবাদকারীদের যুক্তি ও দাবিসমূহ:

১. দীর্ঘমেয়াদী ও আন্তর্জাতিক চর্চা:

· দেশের প্রথম সারির সরকারি ও বেসরকারি বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে হিস্টোপ্যাথলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট ও ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টরা নিজ নিজ ক্ষেত্রের রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন।
· এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত রীতি।

২. ল্যাব পরীক্ষার সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা:

· ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা Biochemistry, Immunology ও Molecular Diagnostic পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, প্রি-এনালাইটিক্যাল, এনালাইটিক্যাল (ক্যালিব্রেশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, মেথড ভ্যালিডেশন) এবং পোস্ট-এনালাইটিক্যাল – প্রতিটি ধাপে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে রিপোর্ট তৈরি ও রোগ নির্ণয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

৩. শিক্ষাগত ও পেশাদার যোগ্যতা:

· বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজির পাঠ্যক্রমে মেটাবলিজম, হেমাটোলজি, ইমিউনোলজি, এন্ডোক্রাইনোলজি, ভাইরোলজি, ব্যাকটেরিয়ালজি, অনকোলজি ইত্যাদি বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা তাদেরকে ডায়াগনস্টিক ল্যাবে কাজের জন্য প্রস্তুত করে।
· তারা ISO 15189, CAP, NABL-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বীকৃত ও যোগ্য (Competent) ল্যাব পেশাদার।

৪. বৈশ্বিক স্বীকৃতি:

· ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ বিশ্বের বহু দেশে বায়োকেমিস্টগণ স্বীকৃত ল্যাব পেশাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৫. সমন্বিত ও বহু-শাস্ত্রীয় পদ্ধতির আহ্বান:

· একটি নির্ভুল রিপোর্ট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
· কোনো একটি পেশাকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে অন্যদের অবদান অস্বীকার করলে ডায়াগনস্টিক সেবার গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পেশাগত বৈষম্য সৃষ্টি হবে এবং রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

প্রধান দাবিসমূহ:

· বাস্তব ও বিজ্ঞানের আলোকে নীতি নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
· স্বীকৃতি: ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট ও ল্যাব-ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের ‘প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি কর্মী’ (Necessary Laboratory Personnel) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
· নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা: শুধুমাত্র স্বাক্ষরকে প্রাধান্য দিয়ে বৈষম্যমূলক নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা হোক।
· ল্যাবরেটরি রেগুলেটরি বডি গঠন: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি যুগোপযোগী Laboratory Regulatory Body প্রতিষ্ঠা করা, যাতে দেশের প্রতিটি ল্যাবরেটরির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিত করা যায়।

চূড়ান্ত বার্তা:

প্রতিবাদকারীরা জোর দিয়েছেন যে তারা কোনো পেশার বিরোধিতা করছেন না; বরং একটি বহু-শাস্ত্রীয় ল্যাবরেটরি সিস্টেম (Multidisciplinary Laboratory System) কামনা করেন, যেখানে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট, ল্যাব সায়েন্টিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, হিস্টোপ্যাথলজিস্ট – প্রত্যেকে নিজ নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে কাজ করে রোগ নির্ণয়ের সেবার গুণগত মান ও রোগীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবেন।

তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান, যাতে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও পেশাদার ন্যায়বিচারের আলোকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।

Related Articles

পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। আজ সকাল ১১টায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি

আরও পড়ুন

তরুণ ছেলে-মেয়েদের চরিত্র গঠন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মূল লক্ষ্য ও

আরও পড়ুন

সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আজ বিকেল ৪টায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের

আরও পড়ুন

সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দীকের মৃত্যুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শোক

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, নীলফামারীর উপপরিচালক জনাব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক ১৮জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman