মঞ্জুর:
মোকাররম হোসেন খান ১০ই জুলাই ২০২৫ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে কথিত বিএনপি নেত্রী-প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে মব তৈরি করে ফ্ল্যাট দখলের জন্য হামলার অভিযোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জাহান খান, মেয়ে মাহিরা হোসেন খান, এ্যাডভোকেট হোসনে আরা, এ্যাডভোকেট তানজিনা প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোকাররম হোসেন খান । তিনি বলেন, আমি মোকাররম হোসেন খান, ক্যাপিটাল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আজ আমি ও আমার পরিবার আমার প্রাক্তন স্ত্রী কর্তৃক বিএনপির নাম ও পদ ব্যবহার করে এবং কতিপয় সন্ত্রাসীকে যুবদল পরিচয়ে ব্যাবহার করে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি কোন রাজনীতিবিদ নই এবং আমি রাজনীতির সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। আমি আপনাদের সামনে আজকে একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আপনাদের জেবা আমিনা আহমেদের সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। তিনি দাবি করেন তিনি বাংলাদেশ মহিলাদলের সহ-সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলার বিএনপির অন্যতম নেত্রী। কিন্তু আমি তার এই রাজনৈতিক দিক নিয়ে কথা বলতে চাই না কারণ আমি মনে করি তিনি এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যাবহার করে তিনি এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যাবহার করে তিনি বিএনপি- কে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। আমি তার ব্যাপারে কথা বলতে চাই তার প্রকৃত রুপ আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। ২০০৫ সালে জেবা আমিনা আহমেদের সাথে আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু তখন আমি জানতাম না যে আমি কত বড় ফাঁদে পা রাখছি। জেবা আমিনা আমার জীবনের এক খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করেছিল। আমার প্রাক্তন স্ত্রী তখন সবে মাত্র কান্সারে ভুগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পর থেকেই আস্তে আস্তে একটার পর একটা গোপন তথ্য উদঘাটন হতে থাকে। আমি জানতে পারি যে আমাদের যখন বিয়ে হয়, তখন ও জেবা আমিনা তার পূর্ববর্তী স্বামীর সাথে বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। আপনারা সবাই জানেন যে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী নারীর বহুবিবাহ হারাম এবং একে জিনা বা ব্যাভিচার বলা হয়। আমি জানতে পারি যে জেবা আমিনার পূর্ববর্তী স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয় আমাদের বিয়ের প্রায় দের বছর পর। সে আমাদের বিয়ের সময় কাজীকে বলেছিল যে তার তালাকনামা ইংল্যান্ডের বাসায় রাখা আছে, কিন্তু তা চরম মিথ্যা ছিল। এই বিসয়ে আমি সিএমএম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করি যার নম্বর ৩৪৬/১৭ । এছাড়া নানান সময়ে নানান টানাপোড়েনের পর ২০১৭ সালে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আমি তাকে ডিভোর্স দেই। কিন্তু তালাকের পরও জেবা আমিনা আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করাতে থাকে এবং জাল চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি কোর্টে মামলা করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে। এই জাল দলিলের বিরুদ্ধে আমি গুলশান থানায় একটি এজাহার দায়ের করি যার নম্বব ৩০(০৮)/১৭। বিভিন্ন সময়ে সে আমার কোম্পানি ক্যাপিটাল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড-কে তার নিজের কোম্পানি বলে দাবি করে। অথচ, এই কোম্পানিতে তার কখনও কোন শেয়ার ছিল না এবং বর্তমানেও তার কোন শেয়ার নাই। বিভিন্ন সময়ে আমার পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রধারী মাস্তান দিয়ে উত্তাক্ত করে। এই বিষয়ও আমি গুলশান থানায় একটি এজাহার দায়ের করি যার নম্বব ১৩(১২)/১৮ । ঘটনার বিবরণ: তালাকপ্রাপ্ত হয়েও আমার সাবেক স্ত্রী জেবা আমিনা আহমেদ, বিবাহবিচ্ছেদের আট বছর পর তার কথিত রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতা অপব্যবহার করে আমার সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র করছেন। ঈদের ছুটিতে আমি স্বপরিবার যখন দেশের বাইরে, তখন আমার বাড়ি ও ফ্ল্যাট দখলের উদ্দেশ্যে ২৭ জুন ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক সারে নয়টায় ঢাকার বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত ২, ইউ.এন. রোডের আমার বাড়িতে ও ২০১ ও ৪০১ নম্বর ফ্ল্যাটে জেবা আমিনার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল আমার ভবনের নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য কর্মচারীদের জিম্মি করে ও মারধর করে এবং জোরপূর্বক ভবনে প্রবেশ করে ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা আমার গৃহকর্মী মারধর করে। এসময় হিজড়া বেশধারী পুরুষরা নারী গৃহকর্মীদের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালায় এবং দেশীয় ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে তাদের জিম্মি করে রাখে। জেবা আমিনা সহ হামলাকারীরা আমার ফ্ল্যাটে ২-৩ ঘণ্টা অবস্থান করে। এসময় আমার বাসার গৃহকর্মিগনের মোবাইল কেড়ে নেয়ায় আমার বাসার সাথে সম্পূর্ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন আমার বাসা থেকে তারা মূল্যবান হীরার অলংকার, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ আমার বেশ কয়েকটি রোলেক্স ও ওমেগা ঘড়িসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে প্রায় সারে সাতাত্তর লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় এবং ফ্লাট ২টির ব্যাপক ভাঙচুর করে ক্ষতি সাধন করে। লুটপাট ও হামলার সময় আমার এক কর্মকর্তা ৯৯৯-এ ফোন দিলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন উক্ত ভবনে এসে উক্ত ফ্ল্যাট দুটির চাবি যেটা আমিনা থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ আমার ২০১ নং ফ্ল্যাটের চাবি আমাকে ফেরত দিলেও ৪০১ নং ফ্ল্যাটের চাবি ফেরত দেয় না, যেখানে আমার মেয়ে মাহিরা হোসেন খান ও আমার ছেলে মেরাজ হোসেন খান তার স্ত্রী ও মেয়ের সহ বসবাস করে। উক্ত ৪০১ নং ফ্ল্যাটটি আমার মেয়ে মাহিরা হোসেন খানের নামে এবং এটির চাবি পুলিশ নিজেদের হেফাজতে রেখে দেয় যা আমার মেয়ে এখনও পর্যন্ত ফেরত পায়নি। উক্ত ফ্ল্যাটে আমার মেয়ের সমস্ত ব্যবহারের মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে। এই লুটপাট ও হামলার পর আমরা সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করার ব্যাপারে থানায় গেলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পুলিশ প্রশাসন থেকে কোনো সহায়তা না পেয়ে আমার মেয়ে মাহিরা হোসেন খান উক্ত লুটপাট মারধর ও আমার গৃহকর্মীদের গুম করার এবং ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। মহামান্য আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।













