মঞ্জুরঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং বদলি নীতিমালা সহজ করাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’।
দাবি বাস্তবায়নে আগামী ১ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তোতার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহীনুর আল আমীন, অজিত পাল, আনিসুর রহমান, শাহীনুর আক্তার, মো. মনিরুজ্জামান মনির ও তপন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা দেশের বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন, পদোন্নতি, বদলি এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা রয়েছে।
শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রতি তিন বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা প্রদান, পে-স্কেলে বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণকে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি পেশায় তুলনামূলকভাবে উচ্চ গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এ বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি
শিক্ষক নেতারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চাকরির ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসনের দাবি জানানো হয়।
বদলি নীতিমালা সহজ করার দাবি
শিক্ষক নেতারা বলেন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সম্পন্ন করার পর নতুন শিক্ষকদের যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালু এবং পাঁচ বা তার কম পয়েন্টের বিদ্যালয় থেকে বদলির ক্ষেত্রেও নীতিমালা শিথিল করার দাবি জানান তাঁরা।
৯ দফা দাবির অন্যান্য বিষয়
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—
1. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ।
2. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
3. চাকরির ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন।
4. বদলি নীতিমালা সহজ করা, পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালু এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিল করা।
5. প্রতি তিন বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা প্রদান, বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি।
6. জীবনমুখী, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করা।
7. শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
8. সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক শিফটে এনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা।
9. প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তাঁরা বলেন, দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ–ইউনান সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা, বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আজ ইউনান প্রাদেশিক পররাষ্ট্রবিষয়ক দপ্তরের (ইউনান











