মঞ্জুর: টাকা ফেরত পেতে গভর্নরের এক সপ্তাহের প্রতিশ্রুতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। রবিবার ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এক মাস, দুই মাস করতে করতে আমরা দেড় বছর ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমাদের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে ফেরত পাচ্ছি না। গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছিলেন—সাধারণ গ্রাহক নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু গত সপ্তাহে আমরা ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাইনি। এরপর বললেন—আগামী সপ্তাহে পাবেন। ডিসেম্বর মাসেরও এক সপ্তাহ পার হেয় গেল। কিন্তু এখনো টাকা দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। আর কত সপ্তাহ পর আমরা টাকা ফেরত পাব তা আমরা জানতে চাই। গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, এ মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ প্রত্যেক আমানতকারী চাইলে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত নিতে পারবেন। তবে সরকারি ব্যাংক হওয়ায় তাঁদের প্রয়োজন ছাড়া টাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হবে না। বড় আমানতকারীরা কবে টাকা তুলতে পারবেন, তা পরে গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে। তিনি আরো জানান, একীভূত ব্যাংকটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এই ব্যাংকের আমানতকারীদের জমা রাখা অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ব্যাংকটি হবে সরকারি মালিকানাধীন, তবে পরিচালিত হবে বেসরকারিভাবে। ফলে কর্মীদের বেতন হবে বাজারভিত্তিক, আর আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন বাজারের হারে। এমনকি পাঁচ ব্যাংকের কারো চাকরিও যাবে না। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন ব্যাংকের আমানতকারী আলিফ রেজা বলেন, ‘দ্রুত ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক করা হোক। আমরা কোনো টাকা তুলতেও পারছি না। আবার এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরও করতে পারছি না। ব্যাংকে আমাদের কষ্টের টাকা গচ্ছিত থাকলেও সেই টাকা তুলতে পারছি না। ফলে মা-বাবার চিকিৎসা, সন্তানের স্কুলের বেতন, ব্যাবসায়িক কাজে টাকা তুলতে না পারা এবং পারিবারিক প্রয়োজনের টাকা না পেয়ে এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ এক্সিম ব্যাংকের সাভার শাখার ভুক্তভোগী মেরিনা হক বলেন, “গভর্নর আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন—আগামী সপ্তাহ থেকে এই পাঁচ ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সেই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। আজ সকালেও আমি এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় গিয়ে আমার জমানো টাকা তুলতে পারিনি। শাখা ম্যানেজার বললেন, ‘আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।’ তাই ব্যাংক আমাকে টাকা দিতে পারবে না। তাহলে আমরা আর কত সপ্তাহ অপেক্ষা করব? আমাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো, আমরা একটা নির্দিষ্ট তারিখ চাই। জানতে চাই ঠিক কবে থেকে আমরা টাকা তুলতে পারব।” লিখিত বক্তব্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পলাশ বলেন, ‘একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংক হলো—এক্সিম, এসআইবিএল, এফএসআইবি, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা এসব ব্যাংকের ভল্টে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও সেই টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় আমরা আজ পথে পথে ঘুরছি। গত ২৮ নভেম্বর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে আমরা ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে একটি সুনির্দিষ্ট আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে আমাদের পূর্বঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি আপাতত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হলো। আমরা আশা করি, এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবির অনুকূলে আশানুরূপ ফল পাব।