মঞ্জুর:
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ১৭ই মার্চ ২০২৫ এনআরবি রাইটস মুভমেন্ট ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা প্রস্তাবনা ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান।তিনি বলেন, নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি, একসময়ে আমাদের কোন হকবা রাইট ছিল না।আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার,পাউন্ড, ইউরো, দিরহাম রেমিটেন্স পাঠিয়েছি বাংলাদেশে। বিনিময়ে আমরা কিছু পাইনি।আমাদের কোন ভোটাধিকার নাই।বেসিক কোন অধিকার নাই-আমরা যারা বিভিন্ন দেশে থাকি।আমি এসব বিষয়ে আপনাদের সামনে কথা বলতে এসেছি।বাংলাদেশকেরেখে কাজের প্রয়োজনে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকি।তবে দেশের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রয়েছে।চেষ্টা করি দেশের জন্য দেশের স্বজনদের জন্য ভাল কিছু করার।কিন্তু এই কাজগুলোকে আরো ত্বরান্নিত করতে
যা করা দরকারঃ
১.ভোটাধিকার: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখনও কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
২. সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ: যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাদেরও সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
৩. পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার: বিদেশে জন্মগ্রহণকারী এনআরবি সন্তানদের বাংলাদেশে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাদের এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সম্মানজনক আচরণ: বিদেশ থেকে আসা বাংলাদেশিদের প্রতি আলাদা চোখে না দেখে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না।
৫. বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা কোর্ট-কাচারিতে হয়রানির শিকার হন। তাদের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে।
৬.এয়ারপোর্টে সম্মান: প্রবাসীদের এয়ারপোর্টে নামার পর যেন কোনো হয়রানির শিকার না হতে হয়। তাদের প্রতি সঠিক সম্মান দেখাতে হবে এবং কোনো রকম আক্রমণ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যাবে না।
৭. ভিভিআইপি কাউন্টার: প্রবাসীদের জন্য এয়ারপোর্টে আলাদা ভিভিআইপি কাউন্টার তৈরি করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশে এসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত এবং সহজে প্রবেশ করতে পারেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানরা যেন হাসেল-মুক্তভাবে দেশে প্রবেশ করতে পারে।
৮.স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণঃ প্রবাসীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা দেশে এসে সুচিকিৎসা পেতে পারেন।
৯.প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব: যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন বা করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজনকে শ্রম মন্ত্রণালয় বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এই ৯ দফা দাবি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে এনআরবি রাইটস মুভমেন্ট আশা প্রকাশ করেছে।