Somoy News BD

২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , শুক্রবার
ব্রেকিং নিউজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত হয়-ভোটের সংখ্যা নয়, ইলেকট্রোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে

বিশেষ প্রতিবেদক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস শুধু যে বৈচিত্র্যময় তা নয়, যেখানে রয়েছে প্রথা বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যের ইতিহাস। ঐসব রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব অনেকটা থমকে দাঁড়ানোর মত ইতিহাস। প্রথা বিরোধী রাজনীতিবিদরা তাদের দেশ ও জাতির নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনেকটা সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থতার গ্লানি বহন করেছেন। আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল ওয়ারেন জি হার্ডিং। যিনি ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সাল সময়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি তাঁর সময়ে মার্কিন জনগণের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা ও অদূরদর্শিতার নজির সৃষ্টি করেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর শপথ ভঙ্গ করে অধিক মূল্যের টেন্ডারগুলি তাঁর বন্ধুদের অনুকূলে পাবার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেন। ওয়ারেন জি হার্ডিং (১৮৬৫ – ১৯২৩) তাঁর ৫৭ বছর জীবনকালে আমেরিকার গণতন্ত্রের উপহাসমূলক ইতিহাসের নজির সৃষ্টি করেছেন। উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে বর্তমান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা করেননি।

এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মেয়াদে (২০১৬-২০২০) সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারী পালনকালে হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন সময়ে আমেরিকার রাজকোষাগার থেকে তাঁর বেতন ভাতাদি সুবিধা ও নেননি। কারণ তিনি ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেও প্রথা বিরোধী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বাস্তবে তিনি তাঁর সময়ে মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার করতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিকে কলঙ্ক ও দাগ মুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা ও তিনি করেছেন। মার্কিন জনগণের করের টাকায় নতুন কোন ধরণের যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার মতো উচ্চাবিলাসী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেননি। অধিকন্তু মার্কিন জনগণের করের টাকায় ব্যয় সংকোচনের নীতি বাস্তবায়ন করেছেন। অতঃপর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সময়ে এসে করোনাভাইরাস মহামারির কবলে পড়ে মার্কিন অর্থনীতি কিছুটা স্থিমিত হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তিনি তাঁর ভাইস-প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব দিয়ে
নির্বাচনের ফলাফল মেনে মার্কিন গণতন্ত্রের ঐতিহ্যবাহী ধারা অনুসরণ করেছিলেন। যদিও তাঁর সময়কালে মার্কিনীদের নির্বাচন সংক্রান্ত ভূলত্রুটির জন্য আদালতের কাঠগড়ায় ও দাঁড়াতে হয়েছিল। তিনিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামলার রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিগত জুলাই ১৩, ২০২৪ রোজ শনিবার পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের তাঁর নির্বাচনী জনসভায় তাঁকে গুলি করে হত্যা প্রচেষ্টা ও অব্যাহত ছিল। যার ফলশ্রুতিতে, মার্কিন গণতন্ত্রের সংকটময় সময়ে এসে আগামী নভেম্বর ৫ তারিখে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অটুট রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন প্লুটোক্র্যাসির সদস্য হিসেবে মার্কিনীদের পলিটিক্যাল ডেমোক্র্যাসির বাস্তবায়নে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবাধিকার রক্ষা ও যুদ্ধবিহীন বিশ্বায়ন গড়তে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশায় ঐতিহ্যবাহী মার্কিনীদের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ধ্বজা ধরতে আবারো মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হয়েছেন। ইসরায়েলের গণহত্যার যুদ্ধ- গাজায় ও লেবাননের যুদ্ধ চলমান। রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনে যুদ্ধ-মার্কিন জনগণের করের টাকার অপচয় ও সময়ক্ষেপন না করে কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে বাদ দিয়ে মার্কিন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই আগামী নভেম্বরের ৫ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইজেন হাওয়ার এর মত আমাদেরও বলতে হবে- “যাদের আমরা পছন্দ করি না, তাদের কথা ভেবে এক মিনিটও সময় যেন আমরা নষ্ট না করি”।

আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের- সাতটি অঙ্গরাজ্যেসহ পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্যের সবকটিতেই ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা একেবারেই শেষ পর্যায়ে এসে উপনীত। শেষ পর্যায়ের প্রচার-প্রচারনার ক্ষেত্রে দুই-দলের দুই প্রার্থী তাদের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। কখনো কখনো ব্যক্তিগত যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার দাবী উত্থাপন করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা তুলে ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি দ্বিধা-বিভক্ত মার্কিন সমাজ ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সীমালংঘন করা হচ্ছে। সর্বোপরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইলেক্টোরাল ভোটিং ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিবেচনা করত প্রার্থীদের বিজয় নির্ভর করে। সর্বশেষ অক্টোবর ৩০, ২০২৪ পর্যন্ত নিউইয়র্ক টাইমস ও ফাইভ থার্টিএইটি জরিপ অনুসারে- শতকরা এক ভাগেরও কম ০.৫৭ ভাগ ভোটে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী। এক্ষেত্রে ভোটের সংখ্যা হিসেবে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যাটির বিবেচনায় আসন পেলে যদি কোনো প্রার্থী গড়ভোট বেশিও পায় কিন্তু ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যার বিবেচনা আসন কম পায়- তাহলে সেই প্রার্থী পরাজিত। অন্যদিকে যদি কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ইলেকট্রোরাল কলেজে ভোটের সংখ্যা বেশি পায় কিন্তু গড়ভোট কম পেলেও সে ক্ষেত্রে ঐ প্রার্থী বিজয়ী বলে বিবেচিত হবে। এখানে উল্লেখ্য যে- কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিজয়ী হতে হলে কমপক্ষে ২৭০ টি ইলেকট্রোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যার বিবেচনায় আসন পেতে হবে।

Related Articles

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা নিয়মিত প্রক্রিয়া- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত

আরও পড়ুন

এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: জহির উদ্দিন স্বপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়ে

আরও পড়ুন

যশোরের শার্শা সীমান্ত থেকে চালিয়ে ৩.৪ কেজি স্বর্ণসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩.৪ কেজি ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ মোঃ রিপন (৪১) নামে এক স্বর্ণ

আরও পড়ুন

শাহজালালে কাস্টমস গোয়েন্দার বড় অভিযান: গ্রিন চ্যানেলে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক, বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)-এর অভিযানে দুই যাত্রীর কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত মোট ৮১.৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[২] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[৩][৪] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman