Somoy News BD

২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , শুক্রবার
ব্রেকিং নিউজ

অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা-সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। সরকার এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আয়োজনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এনডিডি বিষয়ে উপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএমইউ’র ইনস্টিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার এন্ড অটিজম এবং শিশু নিউরোলজিস্ট ও অটিজম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দা তাবাসসুম আলম।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অটিজম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয় কিন্তু বাংলাদেশে অনিবার্যকারণবশত আজ দেবসটি পালিত হচ্ছে । বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন পপুলেশনের মধ্যে ৩.৯ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। সমাজ থেকে পিছিয়ে থাকা এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পশ্চাৎপদ রেখে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের মেধার যোগ্যতা দিয়ে পূর্ণ মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। তারা সমাজের বোঝা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এদের এক একজনের মধ্যে এক এক রকমের মেধা রয়েছে। যার কারণে অলিম্পিকে ক্রীড়া নৈপুণ্যে অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অটিজম সম্পন্ন ব্যক্তিদের দূরে ঠেলে না রেখে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের অধিকার, সুরক্ষা ও সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সমন্বিত ও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ বছরের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান ‘ আমাদের সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক মানুষই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ করে দেয়া।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় অটিজম কর্নার স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের কল্যাণ বাস্তবায়নে কোনো শিশু বা নারী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ধৈর্য ও ভালোবাসা ধরে রাখুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। এককালীন চিকিৎসা অনুদান, থেরাপি সেবা এবং শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে ট্রাস্ট কাজ করছে। আমরা আরও বেশি সংখ্যক মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করব যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়। মন্ত্রী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল, মসজিদ-মন্দির, সমাজে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সকল স্তরে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করবো।

সভাপতির বক্তৃতায় সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, আজ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আয়োজিত ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ ভিন্ন রকমভাবে পালিত হচ্ছে । জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “অটিজম কনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান”আমাদেরকে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, বরং মানববৈচিত্র্যের একটি অংশ। প্রতিটি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির জীবনের মূল্য সমান, তাদের মর্যাদা অপরিসীম এবং তাদের সম্ভাবনা অসীম।অটিজম একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল অবস্থা। এটি কোনো রোগ নয় যা সারিয়ে ফেলতে হবে, বরং এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা বুঝতে, সমর্থন করতে এবং সঠিক পরিবেশ দিতে হবে যাতে তারা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। আমাদের সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে অটিজমকে অন্যরকম বলে দূরে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, তারা আমাদেরই অংশ। তারা আমাদের পরিবারের সদস্য, সমাজের সদস্য এবং এই দেশের গর্বিত নাগরিক।সরকারের অঙ্গীকার ও উদ্যোগ বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ স্কুল-কলেজে অটিজম শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অটিজম শনাক্তকরণে প্রাথমিক স্তরে সচেতনতা, থেরাপি সেবার প্রসার, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিতহয়। গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তারা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করে সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয় । এ বছর ৫টি ক্যাটাগরিতে ২৫ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি,সফল সমাজকর্মী , প্রতিষ্ঠান,সফল পিতা-মাতা ও কেয়ারগিভারকে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অটিজম সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই মন্ত্রী অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই শিশুরা আমাদের সমাজের সম্পদ। তাদের সুরক্ষা ও বিকাশে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

Related Articles

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা নিয়মিত প্রক্রিয়া- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত

আরও পড়ুন

এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: জহির উদ্দিন স্বপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়ে

আরও পড়ুন

যশোরের শার্শা সীমান্ত থেকে চালিয়ে ৩.৪ কেজি স্বর্ণসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩.৪ কেজি ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ মোঃ রিপন (৪১) নামে এক স্বর্ণ

আরও পড়ুন

শাহজালালে কাস্টমস গোয়েন্দার বড় অভিযান: গ্রিন চ্যানেলে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক, বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)-এর অভিযানে দুই যাত্রীর কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত মোট ৮১.৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[২] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[৩][৪] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman