নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুর জেলা সদরের বলেশ্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও জাল দলিল তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিয়ে-শাদি পড়ানো কাজী ও ‘হুজুর’ পরিচিত মোঃ সাইফুল ইসলামকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে,বৈধ মালিকানাধীন জমির একটি অংশ জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা জমির মালিক মোঃ সালেক খান রুনু জানান, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে তিনি পিরোজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বলেশ্বর টোল সংলগ্ন এলাকায় ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ভাবে জমির খাজনা, নামজারি ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে আসছেন। তার দাবি, জমির ৩ শতাংশে বৈধ ভবন থাকলেও অবশিষ্ট প্রায় ১ শতাংশ জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে সেখানে ভবন ও কাজী অফিস নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রথমদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জমিটি ক্রয়ের আগ্রহ দেখিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি লিখিত কাগজ প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নিজেকে মালিক দাবি করেন।
এ ঘটনায় পৌরসভার সরকারি সার্ভেয়ার এবং সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার যৌথভাবে জমি পরিমাপ করে একটি প্রতিবেদন দেন বলে জানা গেছে। ওই প্রতিবেদনে সালেক খান রুনুর নামে ৪ শতাংশ জমির বৈধতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ০.৯৭ শতাংশ জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সড়কের পাশের জায়গাসহ বিভিন্ন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে বৈধ হোল্ডিং, নামজারি কিংবা খাজনা পরিশোধের কোনো রেকর্ড নেই বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি জাল দলিল তৈরি, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি দখল কিংবা সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভুয়া দলিল সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারি জমি দখলের অভিযোগ সত্য হলে প্রশাসন উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ভুক্তভোগী সালেক খান রুনু বলেন,
“আমার সব বৈধ কাগজপত্র, খাজনা, নামজারি ও হোল্ডিং ট্যাক্স রয়েছে। সরকারি জরিপেও আমার মালিকানা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি জালিয়াতি বা জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।













