Somoy News BD

৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বুধবার
ব্রেকিং নিউজ

মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা-সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা-সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আজ দুপুরে চাঁদপুর সদরের মোলহেডে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের গর্ব ও ঐতিহ্য। ১৯৭৮-৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইলিশকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে ২০০৩-০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, একসময় দেশে প্রায় ২০ লক্ষ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও তা কমে প্রায় দুই লক্ষ টনে নেমে আসে। বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে উৎপাদন পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন ২০ লক্ষ টন ইলিশ উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, চাঁদপুর দেশের ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ পাওয়া যায়। তবে এক সময়কার প্রাচুর্যের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ জাটকা নিধন।

মন্ত্রী বলেন, একটি ডিমভর্তি ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি বলেন, সরকার জেলেদের জন্য চাল, তেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫০০ টাকা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের দায়িত্বশীল আচরণই ইলিশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে অধিক ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে বেশি লাভজনক হবে। তিনি বলেন, ইলিশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। “ইলিশ মানেই বাংলাদেশ”-এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদপুর অঞ্চলের চর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য করেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, জেলা প্রাশসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। এসময় নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্হানীয় মৎস্যজীবী, জেলেসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ – ২০২৬ দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য-“জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী”।

Related Articles

তথ্যমন্ত্রীর সাথে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে আজ মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত Joris van Bommel। সাক্ষাৎকালে

আরও পড়ুন

দেশী জাতের গবাদিপশু উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে– মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশী জাতের গবাদিপশুর উন্নয়ন এবং খামারের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে

আরও পড়ুন

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি

আরও পড়ুন

জাতীয় জাদুঘরে জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার: দ্রুত বাস্তবায়নে জাপানের জোরদার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী-এর সাথে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় তাঁর সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত জানব সাইদা

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman