Somoy News BD

৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বৃহস্পতিবার
ব্রেকিং নিউজ

“বৃক্ষরোপণকে সামাজিক নয়, ব্যক্তি আন্দোলনে রূপ দিতে চাই”- শেখ রবিউল আলম, এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বা সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না; বরং এটিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরো বলেন, আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র—এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর এবং কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, “কার্যক্রমবান্ধব বলতে আমরা বুঝি—যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই, ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।” এসময় গাছের পরিচর্যা, সুরক্ষা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “পরিবারে নতুন সদস্য আগমন, কোনো সুসংবাদ বা আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার কয়েকটি করে গাছ লাগায়, তাহলে খুব অল্প সময়েই আমরা একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।” তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদেরও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে করে একটি বৃহৎ সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে এবং কর্মসূচিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিস্তৃত হবে।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওপর বর্তায়। মন্ত্রী আরো জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহে যেখানে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে। “এতে করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবারই উপকার হবে এবং আমরা একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব”—বলেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” গ্রহণ করা হয়েছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই উদ্যোগকে সফল করতে হলে কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসূচিটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসে।

সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণ শুরু হলেও সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ বছর ১ এপ্রিল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সকল দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে সড়কভিত্তিক বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে এবং রোপণের পর নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সবুজ অবকাঠামোগত উন্নয়ন। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই কর্মসূচিকে আরো টেকসই ও ফলপ্রসূ করা হবে।” অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Related Articles

তথ্যমন্ত্রীর সাথে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে আজ মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত Joris van Bommel। সাক্ষাৎকালে

আরও পড়ুন

দেশী জাতের গবাদিপশু উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে– মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশী জাতের গবাদিপশুর উন্নয়ন এবং খামারের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে

আরও পড়ুন

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি

আরও পড়ুন

জাতীয় জাদুঘরে জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার: দ্রুত বাস্তবায়নে জাপানের জোরদার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী-এর সাথে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় তাঁর সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত জানব সাইদা

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman