Somoy News BD

২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , মঙ্গলবার
ব্রেকিং নিউজ

পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন।

আজ সকাল ১১টায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

মতবিনিময়কালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভা শেষে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

অত:পর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শন শেষে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে বাহিনীর অপারেশনাল, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেছেন।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

মাননীয় মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবি মানবিক দায়িত্ব পালনের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।

পুশ-ইন প্রসঙ্গে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সাহসিকতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিবিতে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।

Related Articles

তরুণ ছেলে-মেয়েদের চরিত্র গঠন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মূল লক্ষ্য ও

আরও পড়ুন

সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আজ বিকেল ৪টায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের

আরও পড়ুন

সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দীকের মৃত্যুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শোক

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, নীলফামারীর উপপরিচালক জনাব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক ১৮জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া

আরও পড়ুন

দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃআকিজ বশির গ্রুপের পরিবেশনায়, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর সঞ্চালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ-এর সহযোগিতায় গত ১৮ জুলাই রাজধানীর র‍্যাডিসন

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman