Somoy News BD

২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বৃহস্পতিবার
ব্রেকিং নিউজ

বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরা হলো কুনমিং-এ

ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আজ কুনমিং-এ Kunming Young Entrepreneurs Association (KYEA) এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, কুনমিং-এর যৌথ উদ্যোগে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। Kunming Lingyun Law Firm-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠা এবং শিল্প-সমন্বয় ও প্রকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী সহযোগিতার পথ উন্মোচন।

অনুষ্ঠানে KYEA-এর পক্ষে সভাপতি জনাব OUYANG Jingang, সহ-সভাপতি জনাব SUN Wenjie, মহাসচিব জনাব LI Yi সহ National High-Tech Enterprises, Yunnan Province’s Top 100 Enterprises এবং “Specialized, Refined, Distinctive and Innovative Little Giant” শ্রেণিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থাপনা প্রদান করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীগণ Yunnan Lingyun Law Firm পরিদর্শন করেন। এরপর KYEA-এর কার্যক্রম ও উন্নয়ন সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ: একটি উদীয়মান বিনিয়োগ গন্তব্য
প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক)“Bangladesh as an Investment Destination” শীর্ষক একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক ও তরুণ কর্মশক্তি, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতিকাঠামো তুলে ধরেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শতভাগ মালিকানা, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুবিধা, কর অবকাশ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ সুবিধাসহ প্রণোদনাসমূহ সম্পর্কেও তিনি অবহিত করেন।
উপস্থাপনায় বিশেষভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কসমূহ, বিশেষত চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্থাপিত Chinese Economic and Industrial Zone (CEIZ)-এর সুযোগ-সুবিধা এবং তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ঔষধ শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

বাস্থ্যসেবা, কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি এবং ফল বাজার সম্প্রসারণ
উপস্থাপনা-পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে চীনা উদ্যোক্তাগণ বিভিন্ন খাত সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) সেগুলোর বিস্তারিত জবাব দেন।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাত নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেবা, চিকিৎসা-সরঞ্জাম উৎপাদন এবং ঔষধ শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং এ খাতে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মৎস্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, চীনের বাজারে কাঁকড়া (crab) ও কুচিয়ার (eel) উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া ও কুচিয়ার চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামোতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর চীন সফরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল ও পেয়ারা চীনে রপ্তানির বিষয়ে বাজার-প্রবেশ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের কৃষিপণ্য বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ সফরের এবং সরেজমিনে বিনিয়োগ সুযোগ পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, কুনমিং আগ্রহী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তথ্য, ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও সহযোগিতার আগ্রহ সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত Kunming Young Entrepreneurs Association কুনমিং পৌর বেসামরিক বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধিত একটি অলাভজনক সংগঠন, যা Yunnan Young Entrepreneurs Association ও Kunming Youth Federation-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান। সংগঠনটির সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ ইউনান প্রদেশের প্রাথমিক, শিল্প ও সেবা—তিনটি খাতেই সক্রিয়।
আলোচনায় উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

Related Articles

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বায়োগ্যাস প্লান্ট: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কক্সবাজার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ দেশের জ্বালানি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলায় টেকসই বায়োগ্যাস প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সিআইডির একটি চৌকস দল মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালিয়ে

আরও পড়ুন

প্রকৌশলী সৈয়দ রাশেদুল হাসান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রকৌশলী সৈয়দ রাশেদুল হাসান (রেজা) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ

আরও পড়ুন

সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[২] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[৩][৪] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman