মঞ্জুর: তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে সমাজের সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, একাডেমিক, গবেষক, এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরন এবং তামাকপণ্যের আইন সংশোধনের দাবিতে একটি নীতিনির্ধারনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ মোমেনা মনি, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, নির্বাহী পরিচালক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, চেয়ার, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভাক্সিন অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভী), জনাব মোঃ মহসীন, যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অধিশাখা), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল, জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট), পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ, ডাঃ মোঃ শিব্বির আহমেদ ওসমানী, যুগ্মসচিব, (জনস্বাস্থ্য অধিশাখা), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষ ব্যক্তিবর্গ। জনাব শেখ মোমেনা মনি, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় : তামাকপণ্যের আইন শক্তিশালী করার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি তামাকপণ্যের প্রচার প্রচারনা বন্ধ করার জন্য এবং প্রচার প্রচারনা বন্ধে একটি কঠোর আইন প্রনয়ন করার জন্য। আমরা স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের কেও তামাক বিরোধী প্রচারনায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। তামাক চাষে যারা নিয়োজিত আছে আমরা তাদেরকে সাথে নিয়েও কাজ করার চেষ্টা করছি যাতে করে তারা তামাক চাষ বন্ধ করে নতুন ভাবে অন্য উপায়ে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আমি মনে করি তামাকপণ্যে ব্যবহার বন্ধ করতে আমরা ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এর জন্য বিভিন্ন আপ্লিকেশন তৈরি করে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারি। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর, সুস্থ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার কোন বিকল্প নেই। ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, নির্বাহী পরিচালক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, চেয়ার, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভাক্সিন অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভী) : তামাক সেবন একটি জাতীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামাকজাত দ্রব্য, যেমন সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ইত্যাদি, মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, এর মধ্যে থাকা নিকোটিনসহ ৪০০০-এরও বেশি রাসায়নিক পদার্থ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধন করে এবং নানাবিধ জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তামাক
ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, সিওপিডি বা ফুসফুসের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ১০৯ শতাংশ বেড়ে যায়। এ কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর দৃষ্টি দিতে বাধ্য করার কোন বিকল্প নেই। জনাব মোঃ মহসীন, যুগ্মসচিব (মহাপরিচালক, অটিজম সেল), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় : তামাকপণ্যে উৎপাদনের উপর কঠোর আইন প্রয়োগ করার এখনই উত্তম সময়। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়াও, বেসরকারি সংস্থা এবং মিডিয়ার সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধি করলে এর চাহিদা কমবে। এটি তামাক সেবন, বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ এবং তরুণদের মধ্যে, হ্রাস করবে। বাংলাদেশ সরকারকে একটি ক্রমবর্ধমান কর কাঠামোর নীতি গ্রহণ করতে হবে, যেখানে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে করের হারও বৃদ্ধি পাবে। অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল, জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট), পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ: তামাকপণ্যের উপর কঠুর আইন পাশ না করার জন্য বাংলাদেশের অনেক তামাক কোম্পানি প্রচুর অর্থ খরচ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় পৌনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার তামাকের এসব ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করা কোন বিকল্প নেই। ডাঃ মোঃ শিব্বির আহমেদ ওসমানী, যুগ্মসচিব, (জনস্বাস্থ্য অধিশাখা), স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: তামাক একটি বৈশ্বিক সংকট। আমরা সবাই জানি তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু তার পরেও আমরা দিনের পর দিন নিজেদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছি তামাকপণ্যের ব্যাবহারের ফলে। এই মৃত্যু প্রতিরোধ করতে তামাকপণ্যে যারা চাষ করে সেই সকল মানুষের কাছে আমাদের পৌছাতে হবে যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই চাষাবাদ থেকে বেড়িয়ে আসে এবং তাদের কে এই তামাকপণ্যে চাষাবাদ থেকে বেড়িয়ে আসলেই হবে না, এই সকল চাষিদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করার জন্য নতুন কিছু চাষাবাদের সুজুগ করে দিতে হবে। তার সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকারকে তামাকপণ্যের আইন শক্তিশালী করার কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডাঃ ইফতেখার মুহসিন প্রোজেক্ট কো-অরডিনেটর, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। এই সভার মধ্যে দিয়ে তামাক বিরোধী আইন শক্তিশালীকরন এবং তামাকজাত পণ্যের আইন সংশোধনের জোর দাবি জানানো হয় এবং তামাক বিরোধী কার্যক্রমকে সুদৃঢ় করতে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করা হয়।