Somoy News BD

২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , সোমবার
ব্রেকিং নিউজ

ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়- বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রীর সঙ্গে আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma) সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দু’দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতি ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধকরণ, মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর সম্মেলন, দু’দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ভারতের ITEC প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ, বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। হাইকমিশনার এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা একসাথে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে চাই।

মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধির জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। কিন্তু গত দেড় বছরে আমাদের বিভিন্ন ভিসা সেন্টারগুলোর ওপর মব হামলা ও বিক্ষোভ সহ সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো এবং ভিসা প্রদানের হার কম ছিলো। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতক্রমে পর্যায়ক্রমে ভিসা সেন্টারগুলোও খোলা হবে এবং ভিসা প্রদানের হার ক্রমান্বয়ে বাড়বে। মন্ত্রী এ সময় ভারতীয় ভিসা সেন্টার সহ ভারতীয় স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের মব হামলাকে হবে না মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশন অফিস সহ ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে নেয়া হয়। সেজন্য ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-কে নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী বলেন, আরেকটি বিষয় যেটি দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে সেটি হলো সীমান্ত হত্যা। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো অনেক উন্নত মানের। তিনি ভারতের ITEC প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে ভারতে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ করা হবে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার Pawan Badhe, কাউন্সেলর Abhijit Saptarishi ও প্রথম সচিব Ann Mary George, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান সহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

ইসলামী শরিয়তের বিধান এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সারাবিশ্বে একই দিনে রোজা-ঈদ পালন করা সম্ভব নয়

মঞ্জুর: বাংলাদেশ হেলাল কমিটির উদ্যোগে চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ণয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভ্রান্তি নিরসন বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলন শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার চাঁদ দেখা ও আমলের

আরও পড়ুন

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আরও পড়ুন

নদীতে খাদ্যপণ্যবাহী লাইটার জাহাজ নোঙর করে পণ্য খালাসে বিলম্ব: কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ নৌপরিবহন মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্ধারিত সময়ে আমদানিকৃত গম ও ভুট্টাবাহী লাইটার জাহাজ থেকে খাদ্যপণ্য গুদামে খালাস না করে দীর্ঘদিন নদীতে নোঙর করে রাখার ঘটনায় জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে

আরও পড়ুন

আল-কুরআন সংবিধান দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনার জন্যই রমযান মাসে আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে                                                                                               – আমীর, ইসলামী সমাজ

মঞ্জুর: শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং, বিকাল ৩ ঘটিকায়, ‘ইসলামী সমাজ’ এর পল্টন অফিসে “কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য এবং তা বাস্তবায়নের উপায়” বিষয়ে মতিবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁরই সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর উপর পবিত্র আল-কুরআন নাযিলের কাজ শুরু করে ২৩ বছরে পুরো কুরআন নাযিল সু-সম্পন্ন করেন এবং আল-কুরআনের আইন-বিধানের ভিত্তিতে মদীনায় পরিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। আল-কুরআনই মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান। তিনি বলেন, দীর্ঘকাল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। বাংলাদেশে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান প্রতিষ্ঠিত থাকায় দেশ ও জাতির মানুষ দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীন থেকে দেশ ও জাতির মানুষকে মুক্ত করে আল-কুরআনের আইন-বিধানের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত এবং পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, সকলের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, সকল ধর্মের লোকেরা যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে, ফলে দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে। তখনই আল-কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে। সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে জোট-ভোট ও নির্বাচন বা সশস্ত্র লড়াই ইত্যাদির কোনটাই আল-কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতি নয়! ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত জাহিলি সমাজের বিপরীতে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলন’ই আল কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি।‘ইসলামী সমাজ’ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতেই গণতন্ত্র ও আল-কুরআন বিরোধী সকল সংবিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল-কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরীক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীন থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে আল-কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার আহবান জানান। মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।  ইসলামী সমাজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সহকারী দায়িত্বশীল জনাব আবু জাফর মোঃ সালেহ’র সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল- জনাব মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোলায়মান কবীর, মোঃ সোহেল, মিনহাজ উদ্দিন ও মোস্তফা জামিল সাদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman