Somoy News BD

২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বৃহস্পতিবার
ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাতিসংঘ নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় নীতিগত অঙ্গীকার ও কৌশলগত অগ্রাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাতিসংঘ নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) এর যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় নীতিগত অঙ্গীকার ও কৌশলগত অগ্রাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন (Max Tuñón)-এর সঞ্চালনায় আজ ঢাকায় প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের প্রথম সেশনে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং দ্বিতীয় সেশনে সঞ্চালনা করেন ইউএন উইমেন কান্ট্রি ডিরেক্টর গীতাঞ্জলি সিংহ। সংলাপে বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম অধিকার, লিঙ্গ সমতা, ডে- কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধি, কেয়ার গিভার, কেয়ার ওয়ার্ক, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ভাষাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মত জাতীয় অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক উদ্যোগে কেয়ার গিভারের অংশ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রশংসা করেন এবং আইএলও, এডিবি, ইউএন উইমেনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জাতীয় নীতিমালা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় নারীর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং
শ্রমবাজারে নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টির উপর জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি দেশে এবং বিদেশে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কাজ করছে। সংলাপে জেন্ডার এন্ড স্কিলস টাস্কফোর্সকে আরও শক্তিশালী করা, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসারে শ্রম আইন সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ সংলাপ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার করতে এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর মত আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম. জাহিদ হোসেন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারকরণ, নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে এ ধরনের সংলাপ আমাদের জাতীয় নীতিগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, আমাদের দেশে ৫০ শতাংশ নারী। এই নারী সমাজকে দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলে আমার বিশ্বাস আমাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারবো। এজন্য নারীদের প্রতি আমাদের সবার মন মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি (প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ইত্যাদি) আরও কার্যকর করতে আইএলও, এডিবি ও ইউএন উইমেনের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করেন।

আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন সংলাপ সঞ্চালনা করে বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রাক্কালে শ্রম খাতে সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা ফ্লোর প্রতিষ্ঠা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আইএলওর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যাজেন্ডা, জেন্ডার সমতা এবং দক্ষতা খাতে লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতি বাস্তবায়নে সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। এডিবি ও ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কেয়ার ইকোনমি (care economy) এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে লিঙ্গ-সমতাভিত্তিক নীতি প্রণয়নে সহায়তার কথা জানান। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনা , শ্রম আইন সংস্কার, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন টাস্কফোর্সের অ্যাকশন প্ল্যান এবং বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশনের (বেইজিং+৩০) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তারা একমত হন যে, ত্রিপক্ষীয় সংলাপ (সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষ) জোরদার করে শ্রম অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।এই মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন নীতির সাথে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সামঞ্জস্য বিধান এবং এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

Related Articles

এবছর ৬টি পাটকল লীজে দেওয়া হবে,বাড়াবে কর্মসংস্থান- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এই বছর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বাড়াতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে

আরও পড়ুন

৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকার চলতি ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান, ১২ লক্ষ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লক্ষ মেট্রিক

আরও পড়ুন

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ঢাকা ও গাজীপুরে শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বেতন-বোনাস নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতিকারীদের দমনের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সুশৃঙ্খলভাবে পরিশোধের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আরও পড়ুন

মিতব্যয়িতার অনন্য নজির: বাসে গাজীপুর গেলেন মন্ত্রী, এমপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সুশৃঙ্খলভাবে পরিশোধ নিশ্চিত করতে বুধবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman