Somoy News BD

৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বৃহস্পতিবার
ব্রেকিং নিউজ

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাজেট ব‍্যায় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আজ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নিন্মক্তো বিষয় সমূহ আলোচনা হয়:
 
মূল্যস্ফীতিঃ ১২ মাসের গড় হিসেবে দেশের সার্বিকমূল্যস্ফীতি বিগত জুন ২০২৩ এর পর সর্বপ্রথম নভেম্বর২০২৫ মাসে ৯ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ ২০২৩ এ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ পেরিয়ে ৯.৩৩ শতাংশ হয়। তবে সার্বিকমূল্যস্ফীতি (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) ইতোমধ্যে বিগত জুন২০২৫ মাসে ৯ শতাংশের নীচে চলে আসে এবং নভেম্বর২০২৫ মাসে এটি আরোও কমে ৮.২৯ শতাংশ হয়।আশা করা যায়, সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিএবং কৃচ্ছসাধনের ফলে জুন’ ২০২৬ এ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।

মজুরি প্রবৃদ্ধিঃ বিগত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরীপ্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে পার্থক্য ছিল অনেক বেশি যারফলে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কমে আসছিল। তবেচলতি অর্থবছরের সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতিও মজুরী প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই কমেএসেছে। সর্বশেষ নভেম্বর ২০২৫ মাসে মূল্যস্ফীতি ও মজুরী প্রবৃদ্ধি (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) যথাক্রমে ৮.২৯ ও ৮.০৪ শতাংশে দাড়িয়েছে যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে গড়েছিল ৯.০২ ও ৭.০৪ শতাংশ। ফলে বিগত বছরগুলোতেউচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে প্রকৃত আয়ের পরিমাণ অনেককমলেও বর্তমান অর্থবছরে এ অবস্থা থেকে ক্রমান্বয়েউত্তরণ সাধিত হবে।

কৃষি উৎপাদনঃ কৃষি খাতে যথাযথ প্রনোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে বিগত অর্থবছরে বোরো মৌসুমেবোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে এবং বর্তমান সময়পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটায় আমন ধানেরওভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে চলতিঅর্থবছরে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাঅর্জিত হবে মর্মে আশা করা যায়। উল্লেখ্য,১৫.১২.২০২৫ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন১৬০.৯৫ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট ফসলকর্তন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবেবলে আশা করা যায়। পাশাপাশি, আউশ ধানেরউৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন ৭.২০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন চলকের ভারসাম্যহীনতা ইতোমধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে চলেএসেছে।

আর্থিক ও বৈদেশিক খাতঃ  ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫তারিখ পর্যন্ত গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণদাঁড়িয়েছে ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা আগষ্ট২০২৪ মাসে ছিল মাত্র ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরকাছাকাছি। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়ে আসা, প্রবাস আয়ের গতি বৃদ্ধি এবং দেশের আর্থিক খাতেসম্প্রতি সুদের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায়বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগামীতে ক্রমান্বয়ে আরোওবৃদ্ধি পাবে।

চলতি হিসাব (Current Account): বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্তধারাবাহিকভাবে চলতি হিসাব ঋণাত্নক ছিল এবং২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এরপরিমাণ ছিল যথাক্রমে -১৮.৭, -১১.৬, ও -৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আর্থিক খাতেসুব্যবস্থাপনা ও অর্থ পাচার রোধের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এটি হয়েছে মাত্র -১৩৯ মিলিয়ন মার্কিনডলার। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরসময়ে এটি হয়েছে -৭৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রবাস আয়ঃ উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫ লক্ষ কর্মীর বৈদেশিক নিয়োগ নিশ্চিতহয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লক্ষ ৯৭ হাজার এবং একই সময়ে ১৩.০৪  বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাস আয় হয়েছে যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বেশী।

আমদানিঃ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরোও উৎপাদনশীল করতে আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিতবিধিনিষেধ অপসারন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর-এ আমদানি প্রবৃদ্ধির হারছিল -১.২ শতাংশ (ঋণাত্মক) যা বর্তমান অর্থবছরের(২০২৫-২৬) একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬.১ শতাংশ।

ঋণপত্রঃ মুলধনী যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর ২০২৪ সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল -৩২.৮ শতাংশ (ঋণাত্মক) যা বর্তমান অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৭.৭ শতাংশ। এছাড়া, শিল্পজাত কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর ২০২৪ সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১ শতাংশ যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯৮ শতাংশে। আর্থিক অব্যবস্থাপনার ফলে দেশের ইমেজএর নিম্নগতি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে যার উদাহরণঋণপত্র খোলার হার এবং ট্রেড ফিনান্সিং সহজতর হওয়া।

Related Articles

রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে ——- অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন

আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ পরিবারের আয় ও জীবিকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তি প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে পিকেএসএফ-এর রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি)। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং

আরও পড়ুন

শ্রম আইন বাস্তবায়নের উপর বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভরশীল– মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন আজ সকালে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট

আরও পড়ুন

এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে আজ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত বেলারুশের অনাবাসিক

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman