Somoy News BD

২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বুধবার
ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত ১০ জুলাই ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে বিগত ৬ মাসে (জানুয়ারি/২৫-জুন/২৫) সর্বমোট ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ গত ১১ মাসে ২৪৪২ টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ উল্লিখিত ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনাসমূহ পর্যালোচনা করে। ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে ২২ টি ঘটনায় নিয়মিত হত্যা মামলা এবং ৫ টি ক্ষেত্রে অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ সমূহের মধ্যে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২ টি (ভাতিজা কর্তৃক চাচাকে হত্যা, চাচাতো ভাইদের মধ্যে মারামারির ফলে ১জন নিহত), আর্থিক লেনদেন সংক্রান্তে ২ জন (তন্মধ্যে মাদক ক্রয়- বিক্রয়ের টাকা পাওনা কে কেন্দ্র করে ১ জন), ডাকাতি/ দস্যুতার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ৭ জন, সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য সন্দেহে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিতে ১ জন, তরমুজ ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে মারামারিতে ১ জন, গলায় ফাঁস নিয়ে ৩ জনের আত্মহত্যা, মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এমন ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় (ভবঘুরে/মানসিকভাবে অসুস্থ মহিলার সন্দেহজনক মৃত্যু, জুম চাষে গিয়ে খেয়াং নারী নিহত, তামাক ক্ষেত হতে পাতা কুড়াতে যাওয়া নারীর মৃতদেহ উদ্ধার, বাড়ির পাশ হতে জখমহীন মৃতদেহ/অন্যান্য স্থান থেকে মৃতদেহ উদ্ধার ইত্যাদি) তদন্ত চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসমূহে মোট ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ১৫ জন আসামি বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে এবং ১৮ জন আসামি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। কোন হত্যাকাণ্ডই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা/ সাম্প্রদায়িকতার কারণে সংঘটিত হয়নি মর্মে তদন্তে পাওয়া যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে যৌন হয়রানি/ ধর্ষণ/ গণধর্ষণ সংক্রান্তে মোট ২০ ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ ঘটনার মধ্যে ১৬ টি ঘটনার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে এবং ২৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনা সংক্রান্তে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। রাজশাহীর তানোরে আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি । অভিযুক্তের সাথে পূর্ব হতে বাদীনির পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল মর্মে জানা যায়। মাগুরার শ্রীপুর হরিনন্দীগ্রামে কিশোর কুমার রায়ের বাড়িতে ডাকাতির পর সহধর্মীনীকে গণধর্ষণের ঘটনাটিতে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পায়নি।

সংগঠনটি জানায় সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত; ২০১০ টি- যার মধ্যে ১৭৬৯ টি সম্প্রদায়িক আক্রমণ এবং হামলার ঘটনা । বাংলাদেশ পুলিশ উক্ত ১৭৬৯ ঘটনা যাচাই-বাছাই করে ৫৬ টি জেলায় মোট ১৪৫৭ টি ঘটনার সত্যতা পায়। উক্ত ১৪৫৭ ঘটনার মধ্যে মোট ৬২ টি ঘটনায় মামলা রুজু হয় এবং ৯৫১ টি ঘটনায় জিডি দায়ের করা হয়। ৬২ ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে দেখা যায় যে ১৭৬৯ টি ঘটনার মধ্যে ১৪৫২ টি ঘটনা (৮২.৮%) ৫ই আগস্ট/২০২৪ এ সংগঠিত হয়। ১২৩৪ টি ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধ সংক্রান্ত। ১৬১ টি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ৫ই আগস্ট ২০২৪ হতে ২ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত পূজা মন্ডপ/উপাসনালয় সংক্রান্তে মোট ১২৭ টি সহিংসতার ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায় যার মধ্যে ৬৬টি ঘটনায় মামলা এবং ৬১টি ঘটনায় জিডি লিপিবদ্ধ করা হয়। রুজুকৃত মামলায় মোট ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মন্দির/পারিবারিক মন্দিরে চুরি, প্রতিমা/ মন্দির/ পারিবারিক মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নি-সংযোগ, জমি দখল, উচ্ছেদ, উচ্ছেদের চেষ্টা ইত্যাদি সংক্রান্তে মোট ৬০ টি ঘটনার অভিযোগ করা হয়। উক্ত ঘটনা সমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে মন্দির/পারিবারিক মন্দিরের মূর্তি/অলংকার/আসবাবপত্র/দান বাক্সের টাকা ইত্যাদি সংক্রান্তে বাংলাদেশ পুলিশ ২০ টি চুরির ঘটনার সংবাদ পায়। উক্ত ২০ টি ঘটনায় ১৪ টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় এবং ৫ ঘটনা জিডিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রতিমা/মন্দির/পারিবারিক মন্দিরে ভাঙচুরের মোট ২৪ টি ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায় এবং এ সংক্রান্তে মোট ১৮ টি মামলা ও ৪ টি ঘটনা জিডিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। এসকল মামলায় মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১০ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে। একটি চুরির ঘটনায় এবং দুইটি ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৪ টি অগ্নি- সংযোগের ঘটনার মধ্যে ২ টি অগ্নি-সংযোগের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। ৪ টি ঘটনায় জমি ও সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা ছিল মর্মে জানা যায় তন্মধ্যে দুটি ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়। ৬ টি জায়গা দখলের অভিযোগের সংবাদে তদন্তে প্রকৃতপক্ষে জায়গা দখলের তথ্য পাওয়া যায়নি। খিলক্ষেত থানাধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গার অস্থায়ী পূজা মন্ডপটি মূলত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বগুড়ায় শ্মশানঘাটের পিলার ঠিকাদার কর্তৃক ভেঙে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনের উদ্যোগে পুনরায় শ্মশান ঘাট নির্মাণ করে দেয়া হয়।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংঘটিত অন্যান্য ঘটনাসমূহ পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট ভাবে সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তথ্য পাওয়া গেলে সুনির্দিষ্ট ভাবে ঘটনা সমূহের বিস্তারিত জানানো হবে।

সংঘটিত প্রত্যেকটি ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং সকল স্থাপনা ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Related Articles

ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-১।

আরও পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা

মোঃআশরাফুল আলম: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেলে গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিকেল ৩টার

আরও পড়ুন

প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে নিকারের সভা অনুষ্ঠিত

মোঃআশরাফুল আলমঃ আজ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিবে তাঁর বাসভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের

আরও পড়ুন

গণভোটের লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার -অধ্যাপক আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman