Somoy News BD

৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার
ব্রেকিং নিউজ

বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষ্যে সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনঃশারমিন এস মুরশিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন,  বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষ্যে সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং একইসাথে একঝাঁক যুবক বৌদ্ধ তরুণকে জানাই অন্তরের গভীর থেকে প্রাণঢালা স্নেহ। তিনি বলেন, আমি এখানে এসে অত্যন্ত গর্ববোধ করছি এজন্য যে, এই শুভদিনে ধর্মীয় উৎসবে আমরা স্মরণ করি মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধি লাভ ও মহাপরিনির্বাণের পবিত্র ঘটনাবলী। তার অহিংসা, মৈত্রী, সহানুভূতি ও সাম্যবাদের বাণী আজও আমাদের নৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা দেয়। তা আজও সকল ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের জন্য এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। গৌতম বুদ্ধ শান্তির, সত্যির, সুন্দরের প্রতীক। আজও এই দেশ, এই পৃথিবী সেই শান্তি খুঁজছে, সেই সত্য খুঁজছে এবং সেই অহিংস, ধৈর্য, সংযম খুঁজে বেড়াচ্ছে।
তিনি আজ ঢাকায় বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ আয়োজিত ‘বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য এবং বৌদ্ধ ধর্ম ও মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার এর সভাপতি মহাধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স Tracey Ann Jacobson, রয়েল থাই দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স Panom Thongprayun, বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বুদ্ধিজীবী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় দেখেছি একঝাঁক তরুণ প্রজন্মদের যারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদেরকে ২০২৪ এর পর এমনদিন যায় না, যেখানে আমাদের অন্তর থেকে আমাদের তরুণ সমাজের প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং আর্শিবাদ থাকেনা। তিনি বলেন, আমি বলতে চাই এদেশে যত ধর্ম এসেছে, যত কৃষ্টি তৈরি হয়েছে, যত উৎসব তৈরি হয়েছে, যত মূল্যবোধ তৈরি হয়েছে সবটুকু কিন্তু আমার এই দেশের, এই দেশের মানুষের। এখানে আমি তফাৎ দেখিনা, এই ঐতিহ্য আমর, এই মাটির ঐতিহ্য। আমি বড় হয়েছি এটাই দেখে যে, আমার দেশ বহুজাতিক, বহু ধর্মের, বহু মানুষের সম্মেলনের আমার এই বাংলা, আমার এই বাংলাদেশ।
<span;>আমি এখানে কোন তফাৎ দেখিনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা বাগানে যেমন আমরা নানান রঙের ফুল দেখি,, একই মাটিতে একই শক্তিতে জেগে ওঠে, ভেসে ওঠে ঠিক তেমনি আপনি, আমি একই বাগানের আমরা কজন নানা রঙের মানুষ। এই দিনটিতে আমরা স্মরণ করি গৌতম বুদ্ধকে তার মহাপরিনির্মাণের বাণী আমরা স্মরণ করি, তার সারাজীবনের যাত্রা, শান্তি ও সত্যের পথে অবিচল থাকা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বুদ্ধের শিক্ষা বিশেষ করে করুনা ও শান্তির বার্তা নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করার পথ নির্দেশ করে। সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে বৈষম্য ও নিপীড়ন দূর করায় আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
উপদেষ্টা বলেন ২০২৪ যখন গণআন্দোলন ঘটল তখন আমার কাছে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল ৫০টি বছর ধরে এই দেশ হিংসা লালন করেছে, বিদ্বেষ, ভেদাভেদ লালন করেছে যারজন্য গণতন্ত্র, সাম্য, বিচার চর্চা দাঁড়াতে পারেনি। ৭১এ মুক্তিযুদ্ধের একজন নারী হিসেবে সেদিন দেখেছি কেমন করে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা একটি রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে একটি দেশ পেয়েছে, মাটি পেয়েছে। আজকে পিছনে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে এতই ভুল আমরা করলাম যে, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মত বাচ্চা বাচ্চা ছেলে ময়েরা তারা আমাদের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলল, কেন কারণ- তারা তাদের জীবনে শান্তিত্ব পায়নি। তারা দেখেছে এদেশের অপশাসনে, অন্যায়, আর দুর্নীতির কালোছায়া। ২০২৪ এ এতদিন আমরা যে জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি, সেই অপরাগতায় ২০২৪ এ নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছিল। এই ছোট ছেলে- মেয়েদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে সেদিন চিরকুট লিখে এদেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেদিন জুলাই বিপ্লবে যুদ্ধে নেমেছিল। তাদের প্রত্যাশা আমরা ভুলতে পারবো না। একটি গভীর মূল্যবোধের জায়গায় থেকে তারা অসত্যকে অসত্য বলেছে, অন্যায়কে অন্যায় বলার সাহস করেছে যেটা আমাদের বড়রা করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে যখন সহিংসতা, বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্য ক্রমবর্ধমান তখন বুদ্ধের বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সত্যিকার উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ বিশেষত নারীরা ও শিশুরা নিরাপদ, সম্মানজনক ও সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে। আজকের এই পবিত্র দিনে আসুন আমরা সকলে মিলে একটি সহনশীল, শান্তিপূর্ণ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

Related Articles

প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বেবিচক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা, অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান বিমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ঢাকার কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)

আরও পড়ুন

নোয়াপাড়া নদীবন্দরে লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের নোয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় লাইটার জাহাজসমূহকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের গঠিত টাস্কফোর্স আজ (০৫ মার্চ ২০২৬) একটি অভিযান ও মোবাইল

আরও পড়ুন

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা আজ দুপুর ১২.০০ টায় অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত

আরও পড়ুন

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে ইউজিসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman