Somoy News BD

ব্রেকিং নিউজ

বৈষম্য শুধু চাকরীর ক্ষেত্রেই নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টরে আজ বৈষম্য… আমীর, ইসলামী সমাজ

মঞ্জুর: ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। দেশ ও জাতির মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে অনৈক্যের পথে চলছে। মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচারের পরিবর্তে বৈষম্যের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। চাকরীতে কোটা বৈষম্য ইস্যু নিয়ে আন্দোলন এবং আন্দোলন দমনের নামে মানুষ হত্যা এবং দেশের মানুষের টাকায় উন্নয়ণমূলক মাল-সম্পদ ধ্বংস করার নজিরবিহীন ঘটনা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে গেছে। ছাত্র-ছাত্রী, শিশু, নারী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও পুলিশসহ শত শত মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে। এসব হত্যাকান্ড, হত্যাকান্ডে গুলির ব্যবহার এবং দেশ ও জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করার কাজে কারা জড়িত যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচার করতেই হবে। আমরা এসব হত্যাকান্ডসহ সকল অমানবিক কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি এবং এরই সাথে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন তাদের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরুতে সরকার ছাত্রদের চাকরীতে কোটা সংক্রান্ত ন্যায্য দাবী মেনে নিলে এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হত না। দেশ ও জাতীয় জীবনে এহেন চলমান নাজুক পরিস্থিতির মৌলিক কারণ সমূহ হচ্ছে- ১) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন-কর্তৃত্ব। ২) আল কুরআন বিরোধী মানুষের মনগড়া আইনে রচিত সংবিধানের আনুগত্য এবং ৩) মানুষের মনগড়া আইনে রচিত সংবিধানের ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের আনুগত্য। এ সকল কারণ সমূহের সমাধান না হলে দেশে চলমান নাজুক পরিস্থিতির অবসান হবে না এবং দেশের অর্থনীতিও মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। গতকাল ৪ আগষ্ট ২০২৪ইং, রবিবার বেলা ১২ টায় ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় “দেশে চলমান নাজুক পরিস্থিতির <span;>মৌলিক কারণ সমূহ এবং সমাধানের উপায়” বিষয়ে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, বৈষম্য শুধু চাকরীর ক্ষেত্রেই নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টরে আজ বৈষম্য। শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতিসহ যেদিকেই আমরা তাকাই শুধুই বৈষম্য। সকল বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে সকলের সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ করতে হলে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন—বিধান প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ‘ইসলামী সমাজ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন—বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে চলমান নাজুক পরিস্থিতিতে সরকার, সকল স্তরের প্রশাসন, সেনাবাহিনী, সংবাদিক ও পেশাজীবি মানুষসহ দেশবাসী সকলে চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আতঙ্কিতভাবে জীবন যাপন করছে এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ হলো সকল মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আমীর বলেন, ইসলামী সমাজ সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে, সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে, সমাজ ও রাষ্ট্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এরই অংশ হিসেবে তিনি ৩ দফা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করেন-১) ২৪ আগস্ট ২০২৪ শনিবার, বাদ আছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের উত্তর গেইটে মানবাধিকার সমাবেশ, ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার, বিকাল ৩ ঘটিকায় নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোড ট্রাক স্ট্যান্ডে মানবাধিকার সমাবেশ এবং ২৬ অক্টোবর শনিবার, বিকাল ৩ ঘটিকায় গাজীপুর সদর শিববাড়ী মোড়ে মানবাধিকার সমাবেশ, ২) ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ইং গাজীপুর সদর, বটতলা <span;>উনিশে চত্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমূখে তিন দিন ব্যাপী শান্তিপূর্ণ গণজাগরণ যাত্রা, ৩) দেশব্যাপী টিম ভিত্তিক গণসংযোগ, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণের সাথে মতবিনিময় ও চিঠি প্রদান করা হবে। দেশ ও জাতি এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এ কথার উল্লেখ করে তিনি সরকার, প্রশাসন, সাংবাদিক, সুশিল সমাজ, ছাত্র জনতাসহ দেশবাসী সকলকে সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ ত্যাগ করে, ইসলামী সমাজের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল সর্বজনাব মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোলায়মান কবীর, আমীর হোসাইন, আজমুল হক, মোঃ নুরুদ্দিন, আসাদুজ্জামান, সেলিম মোল্লা, আবু বকর সিদ্দিক ও হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

Related Articles

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও

আরও পড়ুন

চীনের অন্যতম বৃহত্তম প্রদর্শনী “The 10th China-South Asia Expo and the 30th China Kunming Import and Export Fair-2026” এর থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম মেলা ও প্রদর্শনী “The 10th China-South Asia Expo and the 30th China Kunming Import and Export Fair-2026” আগামীকাল চীনের

আরও পড়ুন

২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ,  চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) হজের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা হতে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

গণমাধ্যম রাষ্ট্রের আয়না, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এর কোনো বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম শুধু রাষ্ট্রের আয়নাই নয়, আধুনিক সভ্যতা ও সমাজব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান। রাষ্ট্র, সমাজ ও

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman