Somoy News BD

২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , বুধবার
ব্রেকিং নিউজ

স্কাউটদের মধ্যে থেকে ৮ জন শহীদ হয়েছে, যা ভাষা আন্দোলনের দ্বিগুণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, স্কাউট যে কাজগুলো করে, যে ডিসিপ্লিন এর মধ্যে দিয়ে চলে এটা তোমাদের সুন্দর মানুষ হতে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হতে সাহায্য করে, শুধু তাই নয় আমি মনে করি তোমাদের কাজের জগৎটা তোমাদেরকে অনেক বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।
তিনি আজ ঢাকায় বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্কাউটস গার্ল- ইন- স্কাউটিং বিভাগ আয়োজিত গর্ল- ইন- স্কাউটিং দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটস গার্ল- ইন- স্কাউটিং বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মাহেনুর জাহানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ স্কাউটস এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ শামসুল হক , বাংলাদেশ স্কাউটস গার্ল- ইন -স্কাউটিং বিষয়ক জাতীয় উপকমিটির যুগ্মআহবায়ক নুরুন্নাহার রুপা শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটস একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। স্কাউটিং এর আদর্শ ও মূলনীতি শিশু, কিশোর ও যুব বয়সীদের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে চরিত্রবান ,দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে যেমন তৈরি করবে, তেমনি তোমরা সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষার কার্যক্রম হিসেবে দেশ ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে।
উপদেষ্টা বলেন, সমাজে মেয়েদের প্রতি এত অসম্মান দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের মনজগৎকে পরিবর্তনের জন্য নানা আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়। তিনি বলেন,আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমরা কেন পালন করি কারণ আমরা এই দিনটিতে আমরা ভাবি যে, পৃথিবীজুড়ে নারীদের যে অবস্থা, অবস্থান সেটা কেনো। আলাদা করে একটি দিবস কেন পালন করতে হয়। প্রতিটি দিন যদি আমরা সকলে সম্মানশীল করে সমাজকে গড়ে তুলি তাহলে কি আলাদা দিবসের কোনো প্রয়োজন হবে? প্রয়োজন হয় এমন কতগুলো অপবাদ আছে যেটা মেয়েদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটা অতিক্রম করার জন্য নানানভাবে দিবস গুলি পালিত হয়।
আমি বলতে চাই সমাজে শোষণ থাকে, শোষণের জন্য সংগ্রাম থাকে, সংগ্রাম অতিক্রম করে আমরা মুক্তি অর্জন করি। একটি সুন্দর জগত তৈরি করার, একটি আকাঙ্ক্ষার জন্য আমরা বারবার সংগ্রাম করি আমাদের ইতিহাস তাই বলে।
সংগ্রাম ঘটে যায় অন্যায় যখন হয়, তখনই কষ্টবোধ থেকে আমাদের সংগ্রাম , প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হয় উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রের জন্য তোমরা তরুণ ছেলে মেয়েরা ২৪ এর গণ আন্দোলনে সংগ্রাম করেছ, কারণ এদেশের অপশাসন, অন্যায়, দুর্নীতির কষ্টভোগ করেছো বলেই এই জন্য তোমরা সংগ্রাম করেছ । এ সংগ্রামে তোমরা সারাদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছ।
তিনি বলেন, এ সংগ্রামে তোমাদের স্কাউটদের মধ্যে থেকে ৮ জন শহীদ হয়েছে, যা ভাষা আন্দোলনের দ্বিগুণ। ভাষা আন্দোলনে এই চারজনের জন্য সারাজীবন স্মরণ করে গেলাম কিন্তু তোমাদের এতগুলো ছেলে-মেয়ে প্রাণ দিয়ে গেলো, আমাদের মনের জগতে তা ধারণ করাটাই কঠিন । ভুলে গেলে চলবে না এ থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেকগুলো প্রশ্নের  জন্ম দেয়, আমাদের এই ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েরা যারা প্রাণ দিলো, বড়রা সুন্দর দেশ গড়াতে পারেনি বলে।
আমাদের বাচ্চারা এত কেন প্রতিবাদ করল উল্লেখ করে বলেন, বড়রা সমাজে এত বড় বড় অন্যায়, এমন কতগুলো অসততা , দুর্নীতি, অপসংস্কার, অপসংস্কৃতি তৈরি করেছে যে আমাদের বাচ্চারা সেই জায়গাটিতে তাদের ভবিষ্যৎ খুঁজে পায়নি বলে।
২৪ এর গণআন্দোলনের প্রতিবাদে তারা বলেছিলো মেধাভিত্তিক সমাজ দাও, সকলকে সমান সুযোগ দাও, যদি আমরা কোটাভিত্তিক বলি সেটা হবে বৈষম্য। তিনি বলেন, তোমাদের ভাবনা ছিল যুক্তিসঙ্গত এবং সত্য। সেই জায়গাটিতে তোমরা মেয়েরা ছেলেদের থেকে আগে থেকে মার খেয়েছো, রক্ত দিয়েছো, সাহসের ভূমিকা পালন করেছো। কিন্তু তারপরও তোমরা হারিয়ে যাচ্ছো।
তিনি বলেন, ৭১ দেখেছি। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে মেয়েরা ছিল অগ্রভাগে কিন্তু মেয়েদের নাম ইতিহাসে নেই। ২০২৪ এ গণ আন্দোলনেও মেয়েরা মেধা ভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রভাগে থেকেও তারা হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নারীর প্রতি অবমাননা, সহিংসতা, হুমকি রুখতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সোশ্যাল ফোর্স গঠন করা হচ্ছে।  এই ফোর্স ভিকটিম দের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, তাদের সমস্যা শুনবে এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে একটি ইউনিট গঠন করা হবে যেখানে স্কাউট টিমের মেয়েরাসহ কয়েকশ মেয়ে কাজ করবে। যেখানে প্রতিটি সংগ্রামে তোমরা মেয়েরা অগ্রভাগে ছিলে তেমনি সমাজে সাহসের সাথে অন্যায়কে প্রতিবাদ করবে, নারী সমাজকে মায়ের জাতি হিসেবে সম্মান দেখাবে, তোমরা সাহসের সাথে পথে চলবে, যে কোনো অন্যায়কে প্রতিবাদ করবে, আমরা আছি তোমাদের সাথে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে উপদেষ্টা স্কাউটদের আকা জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন চিত্রাংকন

Related Articles

ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-১।

আরও পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা

মোঃআশরাফুল আলম: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেলে গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিকেল ৩টার

আরও পড়ুন

প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে নিকারের সভা অনুষ্ঠিত

মোঃআশরাফুল আলমঃ আজ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিবে তাঁর বাসভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের

আরও পড়ুন

গণভোটের লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার -অধ্যাপক আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman