বিশেষ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যাত্রা সংগঠন।
বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন সোসাইটি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় জাতীয় রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে একটি বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সংগঠনের সভাপতি নটরাজ এন এ পলাশ সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষাগত প্রস্তুতি, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রজন্মগত ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের ধারণা কেবল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়: বরং আধুনিক শিক্ষা, আইনগত জ্ঞান, নীতিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের আলোচনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রতীকী নির্বাচনী এলাকাগুলোর প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনকে কেন্দ্র করে তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত।
এই অঞ্চলে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা সাধারণত উন্নয়ন, সুশাসন এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় জাইমা রহমান-এর শিক্ষাগত পটভূমি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আইনশাস্ত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বা প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলীয় কাঠামো, স্থানীয় সংগঠন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনসমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে যোগ্যতা, দক্ষতা এবং প্রজন্মগত প্রতিনিধিত্বও আধুনিক রাজনীতিতে একটি প্রাসঙ্গিক আলোচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভায় আলোচনার সারাংশে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের আলোচনাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তাভাবনার অংশ হিসেবে দেখা উচিত বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়।
সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেতৃত্ব, মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতেও আলোচনা অব্যাহত রাখবে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনায়:টিমুনী খান রীনো

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এর সংবাদ সম্মেলন
মঞ্জুর: জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সংগঠনটির দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও সংশোধন করে কর-সুবিধা সব অংশীজনের জন্য উন্মুক্ত না করলে দেশেরসৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।রবিবার ১৪ জুন ২০২৬ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদসম্মেলনে বিএসআরইএর নেতারা এসব কথা বলেন।সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে জানান, বাজেট-পরবর্তী এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত কর ও শুল্ক সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোরজন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে।ফলে আবাসিক, কৃষি, ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং খাতসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ব্যবসায়ী এ সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী এবং ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি।এতে খাতসংশ্লিষ্ট হাজারো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিএসআরইএর মতে, বর্তমান এসআরও দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে রেসকো মডেল বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য উপযোগী হলেও আবাসিক, কৃষি ও গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য তা কার্যকর নয়। সংগঠনটি বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা রাখা হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য বাজেটে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক সহায়তার প্রতিফলন নেই। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ওয়েট-বেইজড অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু’ ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ না থাকায় প্রকল্প ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও বিইএসএসের জন্য শুল্ক সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএসআরইএ। তাদের মতে, দেশে এখনো এসব পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে আগেভাগে সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা নেই। পাশাপাশি স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাজেটে নতুন কোনো উদ্যোগও দেখা যায়নি। বিএসআরইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এসআরও বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ হবে না; বরং সক্ষমতা ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পিকে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে সব আমদানিকারক, ইপিসি প্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও কর সুবিধা উন্মুক্ত করা হলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করেই ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর ও স্মার্ট মিটারসহ সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আয়কর অব্যাহতি এবং আবাসিক ও কৃষি গ্রাহকদের জন্য কর-সুবিধা উন্মুক্ত করার দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সুপার স্টার সোলার এর সিইও শেখ তোফায়েল আহমেদ, বিএসআরইএ












