Somoy News BD

ব্রেকিং নিউজ

দেশ ও জাতির মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি                  আমীর, ইসলামী সমাজ ।                                                   

মঞ্জুর: ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে সার্বভৌমত্বের মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও শাসনকর্তা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় গণতন্ত্র গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব, জনপ্রতিনিধিদের রচিত আইন-বিধান ও সরকারের শাসন-কর্তৃত্ব মেনে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকেই রব্ব গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলতঃ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন কর্তৃত্বের সাথে কুফর এবং শিরক। তিনি বলেন, গণতন্ত্রসহ সকল প্রকার মানব রচিত ব্যবস্থা আযাব-গজব ও জাহান্নামের পথ। সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ই কল্যাণ ও মুক্তির পথ। তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় কল্যাণ ও মুক্তির পথ ইসলামের পরিবর্তে আযাব-গজবের পথ মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় আযাব-গজবের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জাতির মানুষ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে একনাগারে ১৫ বছরের অধিক সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ করার কারণে তাদের চরম বিপর্যয় ঘটেছে এবং দেশ ও জাতির মানুষ গভীর সংকট কাল অতিক্রম করছে। ইসলামী সমাজ ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বশীল সোলায়মান কবীরের সঞ্চালনায়- ২৪ আগস্ট, শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকারমের উত্তর গেইটে ‘ইসলামী সমাজ এর উদ্যোগে- “দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত কল্যাণকর সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, দেশ ও জাতির মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি এবং আযাব- গজবের পথ মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র ত্যাগ না করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আযাব-গজবের পথেই চলছে। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিকম্প ও ভূমিধ্বস এবং অর্থ-সম্পদের মোহ ও ক্ষমতা-আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানুষে মানুষে সংঘাত- সংঘর্ষ ইত্যাদি শিরক ও কুফরের অধীনে মানুষের কৃত অপরাধের শাস্তি স্বরূপ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনেরই আযাব-গজব। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় জীবনে বিপর্যয়মূলক ঘটনা সমূহ এবং চলমান বন্যা মূলতঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবেরই অংশ। দেশে চলমান বন্যার ভয়াবহতার অন্যতম একটি কারণ ভারত সরকারের অনৈতিক বাঁধ খুলে দেওয়া একথার উল্লেখ করে তিনি ভারত সরকারকে এধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। আযাব-গজবের পথ গণতন্ত্র ত্যাগ করে রহমতের পথ ‘ইসলাম’ গ্রহণ না করলে এবং গণতন্ত্রের পথে চলতে থাকলে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। মানব রচিত ব্যবস্থা থেকে মুক্ত না হলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয় না বিধায়; জাতির মানুষ এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনে এবং বন্যাসহ সকল প্রকার আযাব-গজব থেকে বাঁচার লক্ষ্যে গণতন্ত্র ত্যাগ করে গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সকলকে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে । ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই “দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে, সকলের সকল অধিকার আদায় এবং সংরক্ষণ হবে, সকলে আযাব-গজব থেকে রক্ষা পাবে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি বন্যা কবলিত মানুষ এবং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ইস্যুতে আহত লোকদের চিকিৎসা ও আহত, নিহত সকলের পরিবারসহ বিপদগ্রস্থ সকলের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইসলামী সমাজ’ গণতন্ত্রসহ সকল প্রকার মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেই আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাগণ এবং দেশবাসী ছাত্র-জনতা সকলকে তিনি গণতন্ত্র ত্যাগ করে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানান । সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মাদ ইয়াছিন এবং আবু জাফর সালেহ।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী, মোল্লা আমীর হোসাইন, মোঃনুরুদ্দিন মোঃ আলী, জিন্নাহ মোঃ আজমুল হক, সেলিম মোল্লা,আবু বকর সিদ্দিক আসাদুজ্জামান বুলবুল সাইফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান এবং বিভিন্ন নেতা-কর্মীগণ।

Related Articles

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শ্যামলীতে তারেক রহমানের খাদ্য ও বস্ত্র সামগ্রী বিতরণ

সাইমুল রাজুঃ মহান স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন।

আরও পড়ুন

জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাদা মহিষ দেখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় সম্প্রতি আনা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাদা মহিষ (অ্যালবিনো বাফেলো) দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের পরদিন

আরও পড়ুন

জনসাধারণের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকায় কাজ করছে বিজিবির ২৩টি টিম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক

আরও পড়ুন

ঈদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman