গত এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে একাধিক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শেষ ভাগে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার মধ্যে একটি ছিল ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল প্রায় ৫.৫ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ–নরসিংদী সংলগ্ন ভূগর্ভীয় ফাটল অঞ্চলের কাছাকাছি। ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। ওই ঘটনায় ভবন কাঁপে, মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এরপর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ৪.৮ থেকে ৫.২ মাত্রার মধ্যে একাধিক ছোট ও মাঝারি কম্পন রেকর্ড করা হয়। বিশেষ করে সিলেট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসব কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। যদিও এসব ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে পুনরাবৃত্ত ভূকম্পন ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মা সাবডাকশন জোনের দিকে চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে জমা হলে নির্দিষ্ট সময় পর তা ভূমিকম্প আকারে মুক্ত হয়। ফলে মাঝারি কম্পনগুলোকে “স্বাভাবিক টেকটোনিক আচরণ” বলা হলেও এগুলোকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ঢাকা শহরকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ার পর নগর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন যে, শহরের অনেক ভবন এখনও পূর্ণ ভূমিকম্প-সহনশীল মানদণ্ড (BNBC 2020) অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ঘনবসতি, সরুরাস্তা এবং দুর্বল অবকাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় ভূগর্ভীয় চাপের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না; যদিও এর নির্দিষ্ট সময় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো বাংলাদেশকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখন মূলপ্রশ্ন হচ্ছে -এই সতর্ক সংকেতকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে বাস্তব দূর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে!
অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ঢাকা শহরকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ার পর নগর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন যে, শহরের অনেক ভবন এখনও পূর্ণ ভূমিকম্প-সহনশীল মানদণ্ড (BNBC 2020) অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ঘনবসতি, সরুরাস্তা এবং দুর্বল অবকাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় ভূগর্ভীয় চাপের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না; যদিও এর নির্দিষ্ট সময় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো বাংলাদেশকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখন মূলপ্রশ্ন হচ্ছে -এই সতর্ক সংকেতকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে বাস্তব দূর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে!
লেখক: বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (অর্থনীতি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ই-মেইল: sumaiyakanok97@gmail.com










