Somoy News BD

২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , মঙ্গলবার
ব্রেকিং নিউজ

কবি মঈন মুরসালিন এর জন্মদিন

মঈন মুরসালিন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম, যিনি তার সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন কবিতা, শিশুসাহিত্য এবং প্রকাশনা- এই তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্রে।
আজ তার জন্মদিন। কবি মঈন মুরসালিন ১৯৮৪ সালে ঢাকার মগবাজারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি নিজেকে একজন মননশীল কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার লেখনীতে ফুটে ওঠে গভীর জীবনবোধ এবং সমাজের নানা দিক। পাশাপাশি, তিনি একজন সফল শিশুসাহিত্যিক, যিনি শিশুদের জন্য নির্মাণ করেছেন এক কল্পনাবিলাসী ও আনন্দময় জগৎ। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করে চলেছেন।

কবিতা মঈন মুরসালিনের সাহিত্যিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তার কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরলতা ও গভীরতার এক দারুণ সমন্বয়। তিনি সাধারণ বিষয়বস্তুকেও অসাধারণ কাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরতে পারেন। তার লেখনীতে প্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন এবং সমসাময়িক সমাজের নানা অসঙ্গতি উঠে আসে। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে “রোদের মেয়ে বৃষ্টি বোঝে না”, “নাকফুলে ঝুলে আছে ঋতুবতী চাঁদ” এবং “দুর্বোধ্য মায়ার শহর” উল্লেখযোগ্য। এই গ্রন্থগুলোতে তিনি নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণে সফল হয়েছেন, যা পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করে।

মঈন মুরসালিনের সাহিত্যিক প্রতিভার এক উজ্জ্বল দিক হলো তার শিশুসাহিত্য রচনা। শিশুদের মনোজগৎকে বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে। তিনি ছড়া, কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে শিশুদের জন্য এমন এক জগৎ তৈরি করেন, যেখানে আনন্দ, শিক্ষা এবং কল্পনা হাত ধরাধরি করে চলে। তার লেখা “ছড়ার বাড়ি অচিনপুর”, “১০০ ছড়া”, “ছড়া কাটে ছড়াকার বই কাটে ইঁদুরে” এবং “পাখির শহর পাখির বহর” শিশুদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। “পরির হাতে নীল চুড়ি” গল্প সংকলনে তিনি রূপকথার সঙ্গে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো মিশিয়ে দিয়েছেন, যা শিশুদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে সাহায্য করে। তিনি ছোটদের পত্রিকা ‘কানামাছি’ সম্পাদনার মাধ্যমেও শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ‘কানামাছি’ পত্রিকাটির বয়স এখন ২০ বছর। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের উপযোগী এই পত্রিকাটি। শিশু পাঠকরাই একদিন বড় হবে; সেই স্বপ্ন নিয়েই কানামাছির পথচলা।

একজন সফল লেখক হওয়ার পাশাপাশি মঈন মুরসালিন ‘প্রতিভা প্রকাশ’ নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তুলেছেন। প্রকাশনা জগতে তার আগমন লেখক হিসেবে তার অভিজ্ঞতারই একটি সম্প্রসারণ। তিনি কেবল নিজের বই নয়, বরং নতুন ও প্রতিভাবান লেখকদের কাজও প্রকাশ করছেন। একজন প্রকাশক হিসেবে তিনি সাহিত্য জগতে নতুন কণ্ঠস্বরকে সামনে আনতে এবং মানসম্মত বই পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। এটি তার সাহিত্যপ্রেম এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক।

একই সাথে কবি, শিশুসাহিত্যিক এবং প্রকাশক হিসেবে মঈন মুরসালিনের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। তার কবিতা পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়, তার শিশুসাহিত্য শিশুদের মনে কল্পনার বীজ বুনে দেয়, এবং তার প্রকাশনা নতুন লেখকদের জন্য দরজা খুলে দেয়। তার এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে। তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, একজন সত্যিকারের সাহিত্যিক কেবল সৃষ্টি করেই থেমে থাকেন না, বরং নতুন সৃষ্টির পথও তৈরি করেন

Related Articles

নারী নেতৃত্ব এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে জেবিসিসআই-এর উদ্যোগে ‘জাপান–বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত

মোঃ জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টারঃ জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (JBCCI), জেট্রো (JETRO) ঢাকা এবং জাপানিজ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা (JCIAD)-এর সহযোগিতায়

আরও পড়ুন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ছোটদের পত্রিকা কানামাছি’র ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশ ও শিশুনন্দিত আবহে উদযাপিত হলো ছোটদের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘কানামাছি’র ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে ২৫ জুলাই (শনিবার) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এক

আরও পড়ুন

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

মোঃআশরাফুল আলমঃ বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা

আরও পড়ুন

বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ সকাল ১১ টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিগ্রহণ ও বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman