Somoy News BD

২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , রবিবার
ব্রেকিং নিউজ

দুর্যোগ আইন ও স্থায়ী নির্দেশনা রিভিউয়ের তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও স্থায়ী নির্দেশনাতে দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তা দ্রুত পর্যালোচনা করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ঢাকার মতো মেগা সিটিতে শুধু জানমালের ক্ষতিই হবে না, ভেঙে পড়তে পারে পুরো দেশের ‘নার্ভ সেন্টার’ খ্যাত রাজধানীর সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থা ।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে’ রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে “দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক’ এই গোলটেবিলের আয়োজন করে। সভায় আরো বক্তব্য দেন ড্যাব মহাসচিব ডা জহিরুল ইসলাম শাকিল, ইউনিসেফ-এর
চিফ অব হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাই সহ এ খাত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনরা।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে বলেন, “রানা প্লাজা ছিল মাত্র একটি ১০ তলা ভবন। সেই একটি ভবন ধসের পর আমরা দেখেছি ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহতের ভয়াবহ চিত্র। আল্লাহ না করুক, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে যদি এমন ১০০ বা ২০০ ভবন ধসে পড়ে, তবে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করাও কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পে এখানকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।”

দুর্যোগকালীন দায়িত্বের আইনি অস্পষ্টতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, “আমাদের যে দুর্যোগ আইন রয়েছে, তা রিভিউ করা উচিত। এই খাতে কর্মরত আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং প্রকৌশলীরা বসে যদি আইনটি আপডেট করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেবে।”

এ সময় তিনি জরুরি চিকিৎসোত্তর দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো দুর্যোগে মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই আহত হয় না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরাও তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হন। আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনায় এই সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, যা যুক্ত করা জরুরি।”

তিনি ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখ লক্ষ তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গঠন এবং তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা হাব হওয়ার সম্ভাবনা
সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. এম. এ. মুহিত জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজীপুরে ‘ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ’ চালু করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আরও বেশি ফিল্ড রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি ‘হাব’ হয়ে উঠতে পারে এবং অন্যান্য দেশ আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।

Related Articles

শিশুদের সুস্বাস্থ্যে মায়ের দুধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার (১

আরও পড়ুন

ওয়ার্ল্ড মিডিয়া পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬

মোঃ জহিরুল ইসলাম সিনিয়র রিপোর্টার যারা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সমাজসেবা মোঃ বাবুল হোসেন বাবু রেমিটেন্স যোদ্ধা নুর আহমদ জুয়েল চিকিৎসা সেবা ডাঃ ফারজানা খানম তরুণ উদ্যোক্তা

আরও পড়ুন

হোটেলে অনৈতিক ব্যবসায়ী থেকে স্প্যা ব্যবসায়ী নুর ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃনুর ইসলাম আজ থেকে ১৫ বছর আগে আবাসিক হোটেলে চাকুরি করত। তখন নুর ইসলাম পতিতা ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত ছিল। বর্তমান তিনি স্প্যা ব্যবসায়ীর গডফাদার।

আরও পড়ুন

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার – প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাই সকল সম্প্রীতির ভিত্তিভূমি তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল, ১৬ শ্রাবণ (প্রতিনিধি): তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার – মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি,

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman