Somoy News BD

১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , মঙ্গলবার
ব্রেকিং নিউজ

ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার সমাধান হবে —আমীর, ইসলামী সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা ইসলামবিরোধী মতবাদ তথা জাহিলিয়্যাত। মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রণীত সকল ধরনের সংবিধান আলকুরআনবিরোধী সংবিধান। তাঁর দাবি, আলকুরআনবিরোধী গণতান্ত্রিক সংবিধান মেনে চলার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ জাহিলিয়্যাতের অধীনে বন্দি হয়ে আছে।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক সমস্যাসমূহ এবং তা সমাধানের উপায়” শীর্ষক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী দায়িত্বশীল আবু জাফর মোহাম্মাদ সালেহর সঞ্চালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষ বর্তমানে তিনটি মৌলিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এগুলো হলো—
1. মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন-কর্তৃত্বের অধীনে থাকা;
2. মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের ভিত্তিতে রচিত সংবিধানের আনুগত্যের অধীনে থাকা; এবং
3. ওই সংবিধানের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতা বা সরকারের আনুগত্যের অধীনে থাকা।
তিনি বলেন, ইসলামী সমাজের দৃষ্টিতে এসবই কুফর ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক সমস্যা। এসব মৌলিক সমস্যার সমাধান না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভ করতে হলে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন-কর্তৃত্বের পরিবর্তে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন-কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে আল্লাহর প্রদত্ত আইন-বিধানের আনুগত্য এবং মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণ গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ”—এই সাক্ষ্য ও অঙ্গীকারের ওপর দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাসূল (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁর আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যের অধীনে থেকে ইসলামের তাবলিগ ও দাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার দাওয়াতি আন্দোলনে সকল প্রকার বিরোধিতার বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে সবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থাকতে হবে। পাশাপাশি সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা এবং কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ঈমান, আকিদা, চরিত্র ও আমল পরিশুদ্ধ করতে হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এভাবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের পাশাপাশি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে ঈমানদারদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খিলাফত-রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পর রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণে পর্যায়ক্রমে ইসলামের আইন-বিধান চালু করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, এটিই ইসলাম প্রতিষ্ঠার কুরআন ও সুন্নাহসম্মত একমাত্র পদ্ধতি। তাঁর মতে, জাহিলিয়্যাত ত্যাগ করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ এবং এ পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টাই কল্যাণ ও মুক্তির একমাত্র পথ। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার সমাধান হবে।
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, আলকুরআন ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ‘ইসলামী সমাজ’। তাঁর ভাষায়, ‘ইসলামী সমাজ’ মূলত কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন গড়ার আদর্শবাদী প্রতিষ্ঠান ও আন্দোলন। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানান।
তিন মাসের কর্মসূচি
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই তিন মাসের জন্য ইসলামী সমাজ গৃহীত তিন দফা কর্মসূচি সম্পর্কেও বক্তব্য দেন সৈয়দ হুমায়ূন কবীর।
প্রথম দফা: দেশব্যাপী গণসংযোগ, পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
দ্বিতীয় দফা: সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—
২১ আগস্ট, শুক্রবার — চট্টগ্রাম মহানগর
৩১ আগস্ট, সোমবার — বগুড়া মহানগর
৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার — আলমডাঙ্গা থানা শহর, চুয়াডাঙ্গা
৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার — গাজীপুর মহানগর
১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার — ময়মনসিংহ মহানগর
১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার — বিমানবন্দর, ঢাকা মহানগর উত্তর
২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার — মিরপুর, ঢাকা মহানগর উত্তর
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার — শেরপুর জেলা শহর
তৃতীয় দফা: গাজীপুর মহানগরের রাজবাড়ী মাঠ থেকে কুমিল্লা মহানগরের চকবাজার পর্যন্ত দুই ধাপে গণসংযোগ, পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি করা হবে। প্রথম ধাপে ২২ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ইসলামী সমাজ’-এর গঠিত পাঁচটি টিম এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জানানো হয়।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ইসলামী সমাজের আমীর।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-১-এর দায়িত্বশীল মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা এবং ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-২-এর দায়িত্বশীল মুহাম্মাদ ইয়াছিন।

Related Articles

সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে দুই

আরও পড়ুন

২০১৩ সালের গেজেটের আওতায় বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের জাতীয়করণ গেজেটের আওতায় না আসা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তাদের দাবি,

আরও পড়ুন

বিলকিস বেগমের সংবাদ সম্মেলন

মঞ্জুর: শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় স্বামী হত্যার বিচার দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং বাড়িঘরছাড়া করার প্রতিবাদে

আরও পড়ুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’ এর ডাক দিয়েছিলেন— পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’ এর ডাক দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman