নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার-সমর্থিত উদ্যোগ ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম শুরু করেছে। ফান্ড অব ফান্ডস-এর প্রাথমিক আকার ৪০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করতে ফান্ড অব ফান্ডস-এর মাধ্যমে ক্যাটালিটিক ক্যাপিটাল প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্টার্টআপ বিনিয়োগে দেশি-বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান তথা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ উন্নয়ন খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণসহ বিভিন্ন কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের জন্য আরও সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে Request for Expression of Interest (REOI)-এর মাধ্যমে ফান্ড অব ফান্ডস-এর অপারেশনাল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্ররহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম, এমপি বলেন, “বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বড় পরিবর্তন আনার একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। দেশের স্টার্টআপদের সহায়তা করার লক্ষ্যে এটি সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আমরা চাই উদ্ভাবননির্ভর নতুন কোম্পানিগুলো বড় হোক, কর্মসংস্থান তৈরি করুক, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করুক এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক।”
বিশেষ অতিথি প্ররহান আসিফ আসাদ বলেন, “বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও ভালো আইডিয়ার কোনো অভাব নেই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থের অভাবে একটি ভালো উদ্যোগ থেমে যাবে না, বিনিয়োগকারীরা আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং আমাদের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারে যেতে পারবে। ফান্ড অব ফান্ডস সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, “সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা সময়ের সঙ্গে নিজস্ব শক্তিতেই আরও বড় হবে। আমরা যদি বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডসকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আরও বেশি স্টার্টআপে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও তৈরি হবে।”
অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস-এর প্রস্তাবিত কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, কো-ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থা এবং ইকোসিস্টেমে এর সম্ভাব্য অবদান নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস একটি শক্তিশালী ক্যাটালিটিক ক্যাপিটালের পাশাপাশি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নের একটি কার্যকর পদক্ষেপ। এই ফান্ড অব ফান্ডস-এর মাধ্যমে আমরা আরও বেশি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাই, দক্ষ ও পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার তৈরি করতে চাই এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর বড় হওয়ার একটি পরিষ্কার পথ তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাজার তৈরি করা, যেখানে ভালো উদ্যোক্তারা সহজে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন, বিশ্বমানের কোম্পানি গড়ে তুলতে পারবেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করতে পারবেন। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর প্রতিনিধি Ms. Morikawa Yuko বলেন, “বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আরও সক্রিয় হবে এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।”
গত এক দশকে বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোতে আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। তবে এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস-এর মাধ্যমে স্টার্টআপ বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী বহুগুণ প্রভাব (Multiplier Effect) তৈরি করতে চায়। এর ফলে সরকারি মূলধনের প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে অতিরিক্ত বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও উন্নয়নমূলক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
ফান্ডটির কার্যক্রম শুরু হওয়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবননির্ভর ও বিনিয়োগ-উপযোগী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্টার্টআপ বাংলাদেশের বৃহত্তর যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড সম্পর্কে
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী স্টার্টআপে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং












