Somoy News BD

২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , মঙ্গলবার
ব্রেকিং নিউজ

বালুমহলটি পাঁচটি মৌজায় অবস্থিত, দুইটি মৌজার বালু উত্তোলন এবং ইজারা বন্ধঃএডিসি যুবায়ের হোসেন চৌধুরী

নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনসহ নানা পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার মাকড়াইল,কাশিপুর ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা এ অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানীয়েছেন, বালু খেকো
হেমায়েতের বালুর ট্রাক এবং লরী অনেক
সময় গভীর রাত্রে চলাচল করে তখন গাড়ীর বিকট শব্দে বাচ্চা এবং বৃদ্ধরা ঘুম থেকে আতকে ওঠে।বালু পরিবহনের কারনে পরিবেশ সংক্রান্ত যত রকম ঝুকি রয়েছে যেমন স্বাস্থ্য ঝুকি, শব্দ দূষণ ও
বায়ু দূষণের মত ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা নদীতে জেটি স্থাপন করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নদী ভাঙনের কারণে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মসজিদ এবং শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ১১০০ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে স্কুলগামী শিশুরা, যাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক ও লরির চলাচলের ফলে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। মাকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের প্রধান সড়কটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রচুর ভারী যানবাহন চলাচল করায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।এছাড়া, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, যা অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বালু উত্তোলনের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নদীর দুই পাশের মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক শিশু ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছে।

এদিকে,স্থানীয় নারীরা অভিযোগ করেছেন বালুবাহী ট্রাক ও লঞ্চের চালক ও সহকারীরা প্রায়ই স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করে, যা শিশুদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

এলাকাবাসী একাধিকবার এ অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেও,স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি
আওয়ামিলীগের দোসর হেমায়েত মোল্লা (সহ-সভাপতি, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ) ও জহুর মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ) এর নেতৃত্বে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নেতৃবৃন্দ যেকোনো প্রতিবাদ দমন করতে সশস্ত্র অবস্থান নেন এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি প্রদান করেন।

স্হানীয় কিছু নব্য বিএনপির নেতা ঈদের পরে ক্ষমতা এবং টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীদের মাকড়াইল বাজারে ডেকে নিয়ে ডিসি অফিসের কাগজ উঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে।কিন্তু তাতে ভুক্তভোগীরা মোটেও ভয় পাইনি।

এলাকাবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা।
২. বালুবাহী ট্রাক ও লরির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. স্থানীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, যাতে বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা নিরাপদে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

বালু খেকো এবং আওয়ামীলীগের দোসর
হেমায়েতকে একাধিক বার স্হানীয় জনগন অনুরোধ করার পরেও কারো কথার  তোয়াক্কা করে না।হেমায়েত তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে স্হানীয় জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে।গত ১৩ মার্চ বালু খেকো হেমায়েতের বিরুদ্ধে ডিসি বরাবর
একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।এবং পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে বালু খেকো হেমায়েতকে মুঠো
ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন,এটি এরোন
মিয়া কিনেছে,আমি তাকে টাকা দেই আর
বালু কাটি অন্য এক প্রশ্নের জবাবে হেমায়েত বলেন,আমার ভুল হয়ে গেছে।

গত ১৮ মার্চ তারিখে লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী  কমিশনার  (ভূমি) সরেজমিন প্রদর্শন শেষে থানা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেন।রিপোর্টটি সম্পর্কে থানা নির্বাহী অফিসার আবু রিয়াজ বলেন,কোন জায়গা থেকে বালু কাটা যাবে সেটি আমরা নির্ধারন করে দিব।আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বালু কাটা সম্পর্ন ভাবে বন্ধ করে দিব।

ভুক্তভোগী মাকড়াইল, কাশিপুর এবং
রামচন্দ্রপুরের জনগণের ডিসি মহোদয়
বরাবর অভিযোগ দেওয়ার কারনে সেটি
তিনি আমলে নেন।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃযুবায়ের হোসেন চৌধুরীকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃযুবায়ের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গতকাল ৯ এপ্রিলে ঘটনা স্হল পরিদর্শন শেষে জনগনের  আশার প্রতিফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং কয়েকটি বালু মহল ঘুরে দেখেন।সার্বিক বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃযুবায়ের হোসেন চৌধুরীকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন,মোট ৫ টি মৌজার বালু মহলের দুটি মৌজা ঝুঁকিপৃর্ন হওয়ার কারনে এখানকার দুটি মৌজায় বালু উত্তোলন এবং ইজারা বন্ধ থাকবে।তিনি আরও বলেন, স্কুলের কোমল মতি বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে আমরা এসিদ্ধান্ত নিয়েছি।আমরা সব সময় জনগনের স্বার্থে কাজ করি।

ভুক্তভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করে এডিসি
মহোদয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Related Articles

পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। আজ সকাল ১১টায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি

আরও পড়ুন

তরুণ ছেলে-মেয়েদের চরিত্র গঠন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মূল লক্ষ্য ও

আরও পড়ুন

সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আজ বিকেল ৪টায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের

আরও পড়ুন

সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দীকের মৃত্যুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শোক

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, নীলফামারীর উপপরিচালক জনাব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক ১৮জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[][] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman