Somoy News BD

২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , শনিবার
ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়ছে: সাম্প্রতিক কম্পন কি সতর্ক সংকেত? –সুমাইয়া আক্তার

গত এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে একাধিক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শেষ ভাগে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার মধ্যে একটি ছিল ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল প্রায় ৫.৫ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ–নরসিংদী সংলগ্ন ভূগর্ভীয় ফাটল অঞ্চলের কাছাকাছি। ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। ওই ঘটনায় ভবন কাঁপে, মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এরপর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ৪.৮ থেকে ৫.২ মাত্রার মধ্যে একাধিক ছোট ও মাঝারি কম্পন রেকর্ড করা হয়। বিশেষ করে সিলেট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসব কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। যদিও এসব ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে পুনরাবৃত্ত ভূকম্পন ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মা সাবডাকশন জোনের দিকে চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে জমা হলে নির্দিষ্ট সময় পর তা ভূমিকম্প আকারে মুক্ত হয়। ফলে মাঝারি কম্পনগুলোকে “স্বাভাবিক টেকটোনিক আচরণ” বলা হলেও এগুলোকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

ঢাকা শহরকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ার পর নগর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন যে, শহরের অনেক ভবন এখনও পূর্ণ ভূমিকম্প-সহনশীল মানদণ্ড (BNBC 2020) অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ঘনবসতি, সরুরাস্তা এবং দুর্বল অবকাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় ভূগর্ভীয় চাপের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না; যদিও এর নির্দিষ্ট সময় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো বাংলাদেশকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখন মূলপ্রশ্ন হচ্ছে -এই সতর্ক সংকেতকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে বাস্তব দূর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে!

অবহেলা করার সুযোগ নেই।

ঢাকা শহরকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ার পর নগর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন যে, শহরের অনেক ভবন এখনও পূর্ণ ভূমিকম্প-সহনশীল মানদণ্ড (BNBC 2020) অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ঘনবসতি, সরুরাস্তা এবং দুর্বল অবকাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় ভূগর্ভীয় চাপের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না; যদিও এর নির্দিষ্ট সময় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো বাংলাদেশকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখন মূলপ্রশ্ন হচ্ছে -এই সতর্ক সংকেতকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে বাস্তব দূর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে!

লেখক: বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (অর্থনীতি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ই-মেইল: sumaiyakanok97@gmail.com

Related Articles

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে দিনাজপুরের বিরামপুরে জব ফেয়ার ২০২৬ : ৮০টি দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে মিলবে তাৎক্ষণিক চাকুরির সুযোগ

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। সরকারের এই নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে

আরও পড়ুন

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বায়োগ্যাস প্লান্ট: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কক্সবাজার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ দেশের জ্বালানি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলায় টেকসই বায়োগ্যাস প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সিআইডির একটি চৌকস দল মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালিয়ে

আরও পড়ুন

প্রকৌশলী সৈয়দ রাশেদুল হাসান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রকৌশলী সৈয়দ রাশেদুল হাসান (রেজা) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[২] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[৩][৪] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর    উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।

sheikh mujibur rahman